করোনাভাইরাস সম্পর্কিত প্রশ্নোত্তর

নতুন করোনাভাইরাস সম্পর্কে আমাদের শ্রোতাদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন এনএইচকে’র বিশেষজ্ঞরা।

প্রশ্ন-১৭৮: টিকা (৮) mRNA টিকা কি?

উত্তর-১৭৮: এনএইচকে নতুন করোনাভাইরাস সম্পর্কে শ্রোতাদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে। এবার আমরা টিকা সম্পর্কে ধারাবাহিক প্রশ্নোত্তরের অষ্টম কিস্তি তুলে ধরব। mRNA টিকা কি সেদিকে আমরা দৃষ্টি দেব।

নতুন করোনাভাইরাস থেকে সংগ্রহ করা জিনগত উপাদানের তন্তু অন্তর্ভুক্ত থাকা একটি “জিনের টিকা” বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বাজারে ছাড়া হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসের ১৭ তারিখে জাপান যুক্তরাষ্ট্রের ফাইজার এবং জার্মানির বিয়োনটেকের যৌথভাবে উদ্ভাবিত টিকা ব্যবহার করে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। এই টিকা এবং যুক্তরাষ্ট্রের মডার্নার উদ্ভাবিত আরও একটি টিকা, এই উভয় টিকা হচ্ছে mRNA টিকা, জিনগত উপাদান যাতে রয়েছে।

ভাইরাসের গায়ে যেসব “সুচালো ফলার প্রোটিন বা আমিষ” থাকে সেগুলোর তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকা mRNA ইঞ্জেকশনের মধ্যে মানব দেহে ঢুকিয়ে দিয়ে টিকা কাজ করে। সুচালো ফলাযুক্ত প্রোটিন তৈরি করে নিতে mRNA মানব কোষের ভেতরে ব্লু-প্রিন্ট হিসেবে কাজ করে।

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা এসব সুচালো ফলাযুক্ত প্রোটিনের বিরুদ্ধে অসংখ্য অ্যান্টিবডি তৈরি করে নিতে কাজ করতে শুরু করে। আসল ভাইরাস যখন দেহে প্রবেশ করে, এসব অ্যান্টিবডি তখন তাৎক্ষণিকভাবে হামলা চালায়।

তবে mRNA’র স্থিতিশীলতার ঘাটতি আছে এবং টিকা হিসেবে ইঞ্জেকশন নেয়ার পর দ্রুত তা গলে যায় এবং শরীরে থাকে না।

এছাড়া mRNA টিকা একারণে খুবই নিরাপদ বলে বলা হয় যে মানব জিন যেখানে রয়েছে, দেহের সেই মূল কোষে এটা প্রবেশ করে না।

এ তথ্যগুলো ফেব্রুয়ারির ১৭ তারিখ পর্যন্ত নেয়া।

প্রশ্ন-১৭৭: টিকা (৭) জাপানের টিকাদান কর্মসূচিতে আগে থেকে স্বাস্থ্য সমস্যা থাকার বেলায় অগ্রাধিকার দেয়া প্রসঙ্গে।

উত্তর-১৭৭: এনএইচকে নতুন করোনাভাইরাস সম্পর্কে শ্রোতাদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে। এবার আমরা টিকা সম্পর্কে ধারাবাহিক প্রশ্নোত্তরের সপ্তম কিস্তি তুলে ধরব। জাপানের কোভিড-১৯ টিকাদান কর্মসূচিতে বিদ্যমান কোন্‌ ধরনের স্বাস্থ্যগত সমস্যার উপর অগ্রাধিকার দেয়া হয় তা আমরা দেখব।

জাপানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় স্বাস্থ্য সমস্যার একটি খসড়া তালিকা তৈরি করেছে। হৃদরোগ ও বৃক্ক বা কিডনির দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা, শ্বাসকষ্ট, ক্যান্সারের মত রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল করে দেয়া অসুখ এবং ঘুমের মারাত্মকরকম ব্যাঘাত এতে অন্তর্ভুক্ত আছে। এরকম অসুস্থতার কারণে যারা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন কিংবা নিয়িমিতভাবে চিকিৎসকের সাথে দেখা করছেন, তাদেরকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

শারীরিক অবস্থার সনদ দাখিল করতে রোগীদের বলা হবে না। রোগীদের শুধুমাত্র যা করতে হবে তা হল একটি প্রশ্নপত্র পূরণ করা।

শারীরিক অবস্থার প্রতিফলন তুলে ধরা বডি-মাস ইন্ডেক্স বা বিএমআই ৩০ এর উপরে থাকা লোকজনও অগ্রাধিকার পাবেন। ধারণা করা হয় স্থূলতার পর্যায়ে যারা অন্তর্ভুক্ত কিংবা আগে থেকে স্বাস্থ্যগত সমস্যা যাদের আছে, জাপানে সেরকম প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের সংখ্যা প্রায় ৮২ লক্ষ।

এ তথ্যগুলো ফেব্রুয়ারির ১৬ তারিখ পর্যন্ত নেয়া।

প্রশ্ন-১৭৬: টিকা (৬) কাদের শুরুতে টিকা দেয়া হবে?

উত্তর-১৭৬: এনএইচকে নতুন করোনাভাইরাস সম্পর্কে শ্রোতাদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে। এবার আমরা টিকা সম্পর্কে ধারাবাহিক প্রশ্নোত্তরের ষষ্ঠ কিস্তি তুলে ধরব। এবারের প্রশ্ন করোনাভাইরাস টিকা পাওয়ার বেলায় কারা শুরুতে থাকবেন?

জাপানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে টিকা দেয়ার বেলায় অগ্রাধিকার থাকবে, চিকিৎসা কর্মীদের প্রথমে টিকা দেয়া হবে। এর পরে থাকবেন ৬৫ বছর কিংবা বেশি বয়সের বৃদ্ধরা। তারপর হচ্ছেন বৃদ্ধদের সেবা কেন্দ্রে যারা কাজ করছেন এবং স্বাস্থ্য সমস্যা থাকা লোকজন।

বৃদ্ধদের সেবাযত্ন কেন্দ্রের কর্মচারীদের বেলায় মন্ত্রণালয় কিছু শর্তের আওতায় বৃদ্ধ লোকজনের একই সময়ে এদের টিকা দেয়া অনুমোদনের পরিকল্পনা করছে; যেমন, চিকিৎক যখন টিকা দেওয়ার জন্য কেন্দ্রে আসবেন। মন্ত্রণালয় বলছে কেন্দ্রে গুচ্ছ সংক্রমণ প্রতিহত করায় তা করা হবে। শর্তাবলির মধ্যে বৃদ্ধদের স্বাস্থ্যের উপর যারা নজর রাখছেন সেই চিকিৎসকদের প্রতিদিন উপস্থিত থাকা অন্তর্ভুক্ত আছে। টিকা নেয়ার পর কেন্দ্রের টিকা নেয়া কর্মচারীদের জায়গায় অন্য কেউ যেন বৃদ্ধদের অবস্থার উপর নজর রাখতে পারে, তা নিশ্চিত করে নিতে এটা করা হবে।

টিকা নিতে যারা ইচ্ছুক তাদেরকেই কেবল টিকা দেয়া হবে। কিছু বৃদ্ধ লোকজনের বেলায় টিকা তারা নিতে চাইছেন কি না তা নিশ্চিত হওয়া কঠিন হতে পারে। সেরকম ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় বলছে সিদ্ধান্ত যেন পরিবারের সদস্য ও চিকিৎসকদের সহায়তায় নেয়া হয়।

এ তথ্যগুলো ফেব্রুয়ারির ১৫ তারিখ পর্যন্ত নেয়া।

প্রশ্ন-১৭৫: টিকা (৫) টিকাদান প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে।

উত্তর-১৭৫: এনএইচকে নতুন করোনাভাইরাস সম্পর্কে শ্রোতাদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে। জাপানে বসবাসরত বিদেশিদের দেশের টিকাদান কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়েছে এবং সরকারের যোগানো তহবিলে তারা টিকা নিতে পারবেন। জাপানের আনুমানিক ৩০ লক্ষ বিদেশিকে সমস্যা ছাড়া টিকা নিতে সাহায্য করায় আমরা আমাদের টিকা সম্পর্কে ধারাবাহিক প্রশ্নোত্তর অব্যাহত রাখছি। এবারের প্রশ্ন টিকাদান কেন্দ্রে টিকা কিভাবে দেয়া হচ্ছে?

প্রচুর সংখ্যক মানুষের টিকাদানের বেলায় টিকা নেয়া লোকজনকে প্রথমে অবশ্যই তাদের বাড়ির ঠিকানায় স্থানীয় পৌরসভার পাঠানো কুপন জমা দিতে হবে এবং ড্রাইভার লাইসেন্স, বিমার কার্ড বা অন্য কিছুর মধ্যে দিয়ে নিজেদের পরিচয় নিশ্চিত করিয়ে নিতে হবে।

টিকা গ্রহণকারী এরপর নিজের শারীরিক অবস্থা, চিকিৎসার ইতিহাস বিষয়ে একটি প্রশ্নপত্র পূরণ করবেন এবং টিকা তিনি নিতে পারবেন কি না তা নিশ্চিত করে নিতে একজন চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা করে দেখবেন।

এই পর্যায় পর্যন্ত কোন সমস্যা না হলে টিকা গ্রহণকারী টিকা নিতে পারবেন। প্রত্যেক ব্যক্তির বেলায় ইঞ্জেকশন দেয়ার জন্য দুই মিনিট পর্যন্ত সময় লাগবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

ইঞ্জেকশন পাওয়ার পর গ্রহণকারী একটি সনদ পাবেন, যেখানে টিকা নেয়ার তারিখ এবং যে টিকা তিনি পেয়েছেন সেটার নাম লেখা থাকবে। দ্বিতীয় দফার টিকা পাওয়ার সময় সনদের প্রয়োজন হবে।

টিকা গ্রহণকারীদের জন্য যেটা গুরুত্বপূর্ণ তা হল টিকা নেয়ার ঠিক পরপর তারা যে বাড়ি ফিরে যেতে পারবেন না তা মনে রাখা। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় টিকা গ্রহণকারীদের অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য তৈরি বিশেষ একটি জায়গায় ১৫ মিনিটের বেশি সময় থাকার অনুরোধ তাদেরকে করেছে।

বিদেশে চালানো ক্লিনিকাল পরীক্ষা অনুযায়ী জাপানে যে টিকা পাঠানো হয়েছে সেই টিকা নেয়া কিছু লোকজনের মধ্যে টিকার ডোজ নেয়ার পর মাথাব্যথা কিংবা ক্লান্তি বোধ করার মত উপসর্গের খবর পাওয়া গেছে। দুর্লভ কিছু ঘটনার বেলায় অ্যানাফিল্যাকটিক প্রতিক্রিয়া জড়িত থাকা টিকার মারাত্মক ধরনের এলার্জি প্রতিক্রিয়া সম্পর্কেও যুক্তরাষ্ট্র এবং বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে জানা গেছে।

টিকা নেয়ার পর কেউ অসুস্থ হয়ে পড়ার বেলায় সাড়া দেয়ার জন্য টিকা দেয়ার জায়গায় সহায়তা স্টেশন তৈরি করে নেয়া হবে।

এ তথ্যগুলো ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখ পর্যন্ত নেয়া।

প্রশ্ন-১৭৪: টিকা (৪) কিভাবে এবং কোথায় আমরা টিকা পেতে পারি?”

উত্তর-১৭৪: এনএইচকে নতুন করোনাভাইরাস সম্পর্কে শ্রোতাদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে। এবার আমরা টিকা সম্পর্কে ধারাবাহিক প্রশ্নোত্তরের চতুর্থ কিস্তি তুলে ধরব। আমাদের এবারের প্রশ্ন হল জাপানে কিভাবে এবং কোথায় কোভিড-১৯’এর টিকা দেয়া হবে?

কেন্দ্রীয় সরকারের দিকনির্দেশনায় মিউনিসিপ্যাল বা পৌরসভা কর্তৃপক্ষের টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করার কথা রয়েছে। যারা টিকা নিতে চাইবেন, তারা যে পৌরসভায় অধিবাসী হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন, সেখানে টিকা নিতে পারবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তবে এর ব্যতিক্রম হিসেবে যারা কাজের জন্য অথবা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কারণে নিজেদের বাসা থেকে দূরে রয়েছেন, তাদেরকে অন্য পৌরসভায় টিকা নেয়ার অনুমতি দেয়া হবে। টিকা নেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কুপন পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ডাকের মাধ্যমে আপনার বাসার ঠিকানায় পৌঁছে দিবে। আপনি যদি টিকাদান কেন্দ্রে সেই কুপন নিয়ে আসেন, তাহলে আপনি বিনামূল্যে টিকা নিতে পারবেন।

তবে, আপনাকে আগে থেকে ফোন বা অন্য কোন উপায়ে অ্যাপয়ন্টমেন্ট নিয়ে রাখতে হবে। চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি হল এবং জিমনেশিয়ামে টিকাদান কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। পরবর্তী কিস্তিতে টিকা নেয়ার সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পর্কে আমরা আপনাদের জানাব।

এ তথ্যগুলো ফেব্রুয়ারির ৪ তারিখ পর্যন্ত নেয়া।

প্রশ্ন-১৭৩: টিকা (৩) টিকা কতদিন পর্যন্ত কার্যকর থাকে?

উত্তর-১৭৩: এনএইচকে নতুন করোনাভাইরাস সম্পর্কে শ্রোতাদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে। এবার আমরা টিকা সম্পর্কে ধারাবাহিক প্রশ্নোত্তরের তৃতীয় কিস্তি তুলে ধরব। আমাদের এবারের প্রশ্ন কোভিড-১৯ এর টিকা কতদিন পর্যন্ত সুরক্ষা দেয়।

জাপানে এবং জাপানের বাইরে বেশ কয়েকটি কোভিড-১৯ এর টিকার উন্নয়ন করা হয়েছে বা হচ্ছে। তবে আমরা এখনও জানিনা কতদিন তাদের কার্যকারিতা থাকবে, কারণ মানবদেহে পরীক্ষা এবং প্রকৃত টিকাদান কর্মসূচি বিদেশে মাত্র শুরু হয়েছে।

জাপানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে এই টিকাগুলো নতুন করোনাভাইরাসের রুপান্তরিত ধরনের ক্ষেত্রেও কার্যকর। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন সাধারণভাবে ভাইরাসেরা ক্রমাগত পরিবর্তিত হতে থাকে এবং সামান্য এই পরিবর্তন টিকার কার্যকারিতা নষ্ট করার সম্ভাবনা কম।

পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে যে ফাইযারের টিকা এবং বর্তমানে পাওয়া যাওয়া অন্যান্য টিকা দেহে এন্টিবডি তৈরি করেছে যা করোনাভাইরাসের পরিবর্তিত ধরনের ক্ষেত্রেও কাজ করেছে। কর্মকর্তারা জানান জাপানে চলমান পরীক্ষার সময় তারা পরিবর্তিত ধরনের ক্ষেত্রে কার্যকারিতা সহ টিকার কার্যকারিতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন।

এ তথ্যগুলো ফেব্রুয়ারির ৩ তারিখ পর্যন্ত নেয়া।

প্রশ্ন-১৭২: টিকা (২) কেন টিকা নেয়া জরুরি?”

উত্তর-১৭২: এনএইচকে নতুন করোনাভাইরাস সম্পর্কে শ্রোতাদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে। এবার আমরা টিকা সম্পর্কে ধারাবাহিক প্রশ্নোত্তরের দ্বিতীয় কিস্তি তুলে ধরব। আমাদের এবারের প্রশ্ন কেন টিকা নেয়া জরুরি সে সম্পর্কে।

টিকা দেয়ার উদ্দেশ্য হল মানুষকে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রদান করা বা তাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা। প্রত্যাশা করা হয় যে টিকা একজন ব্যক্তিকে রোগের লক্ষণ প্রকাশ পাওয়া বা গুরুতর অসুস্থ হয়ে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচাবে। এর পাশাপাশি এটি কমিউনিটিতে রোগের বিস্তার কমিয়ে আনবে বলেও ধারণা করা হয়।

জাপানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, বিদেশে পরিচালিত ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে গুরুতর অবস্থা এবং জ্বরের মত লক্ষণ প্রতিরোধে নতুন করোনাভাইরাসের টিকা কার্যকর ভূমিকা রাখে।

অনেক মানুষকে টিকা দেয়ার ফলে যদি গুরুতর অসুস্থ রোগী এবং এই রোগ থেকে মৃত্যুর সংখ্যা কমে আসে তাহলে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর থেকে চাপ কমে যাবে।

এ তথ্যগুলো ফেব্রুয়ারির ২ তারিখ পর্যন্ত নেয়া।

প্রশ্ন-১৭১: টিকা (১) বিদেশিদের জন্য টিকাদান কর্মসূচি সম্পর্কে।

উত্তর-১৭১: এনএইচকে নতুন করোনাভাইরাস সম্পর্কে শ্রোতাদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে। এবার আমরা টিকা সম্পর্কে ধারাবাহিক প্রশ্নোত্তরের প্রথম কিস্তি তুলে ধরব। আমাদের এবারের প্রশ্ন জাপানে বসবাসরত বিদেশিদের জন্য টিকাদান কর্মসূচি সম্পর্কে।

জাপানে বসবাসরত বিদেশিরা দেশের যে মিউনিসিপ্যালিটি বা পৌরসভার অধিবাসী হিসেবে নিবন্ধিত সেখান থেকে করোনাভাইরাসের টিকা নিতে পারবেন।

জাপানের টিকাদান কর্মসূচি ফেব্রুয়ারির ১৭ তারিখ থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের টিকাদানের মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচি শুরু হবে, পরবর্তীতে ধীরে ধীরে এর পরিধি বাড়িয়ে প্রবীণদের এবং তারপরেই শারীরিক সমস্যা থাকা ব্যক্তিদের এবং অন্যান্যদের টিকার আওতায় আনা হবে।
প্রবীণদের টিকাদান কর্মসূচি এপ্রিলের মধ্যেই শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

টিকা পেতে কোথায় যেতে হবে, নীতিগতভাবে, বাসিন্দা হিসেবে লোকজন যে পৌরসভায় নিবন্ধিত সেখানেই টিকা দেওয়ার স্থান নির্ধারণ করা হবে।
সরকার টিকা পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কুপন জনগণের বাড়িতে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। এ টিকা বিনামূল্যে দেওয়া হবে।

এ তথ্যগুলো ফেব্রুয়ারির ১৫ তারিখ পর্যন্ত নেয়া।

প্রশ্ন-১৬৭: কতদিন পর্যন্ত টিকার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কার্যকর থাকবে?

উত্তর-১৬৭: এনএইচকে নতুন করোনাভাইরাস সম্পর্কে শ্রোতাদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে। এবার আমরা টিকা সম্পর্কে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ধারাবাহিক প্রশ্নোত্তরের ষষ্ঠ কিস্তি তুলে ধরব। এবারের প্রশ্ন কতদিন পর্যন্ত টিকার প্রভাব স্থায়ী থাকবে?

ডব্লিউএইচও’র টিকাদান, টিকা এবং জীববিজ্ঞান বিষয়ক বিভাগের পরিচালক কেট ও’ব্রায়েন জানুয়ারির ৭ তারিখে এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে নিচের কথাগুলো বলেন।

তিনি বলেন মানবদেহে পরীক্ষা বসন্তে শুরু হয়েছিল এবং আমরা এখনও এ টিকাগুলো ব্যবহারের শুরুর দিনে রয়েছি। তিনি বলেন ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের মাধ্যমে লোকজনকে অনুসরণ করা চালিয়ে যাওয়া থেকে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কতদিন স্থায়ী হয় তা জানা যেতে পারে, ডব্লিউএইচও’র এখনও এর উত্তর জানা নেই। তিনি বলেন ডব্লিউএইচও আশা ও প্রত্যাশা করছে যে এর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী হবে। তিনি বলেন ডব্লিউএইচও সেইসব ব্যক্তিদের প্রতিও নজর রাখছে যারা প্রাকৃতিকভাবে কোভিড-১৯এ সংক্রমিত হয়েছিলেন। তিনি বলেন যে এ থেকে প্রাকৃতিক সংক্রমণ দ্বারা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কতদিন স্থায়ী হয় তার কিছু ইঙ্গিত পাওয়া যাবে এবং সম্ভবত ভ্যাকসিন সম্পর্কিত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় তা প্রয়োগ করা হবে। তিনি পুনরায় বলেন যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কত দিন স্থায়ী হবে এই মুহুর্তে তা জানানো খুব তাড়াতাড়ি।

এ তথ্যগুলো জানুয়ারির ২৬ তারিখ পর্যন্ত নেয়া।

প্রশ্ন-৪৯: আমি শুনেছি যে স্প্যানিশ ফ্লু’র প্রাদুর্ভাব তিনটি ওয়েভ বা তরঙ্গে হয়েছিল। অনুগ্রহ করে আমাকে সেই সম্পর্কে আরও বলুন।

১৯১৮ সালের ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারী, যা ‘স্প্যানিশ ফ্লু’ নামেও পরিচিত, ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের নতুন একটি স্ট্রেইনের কারণে হয়েছিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে যে প্রায় ৫০ কোটি লোক বা সেই সময়কার বৈশ্বিক জনসংখ্যার মোটামুটি এক চতুর্থাংশ সংক্রমিত হয়েছিলেন এবং ৪ কোটি লোক মারা গিয়েছিলেন।

স্প্যানিশ ফ্লু ১৯১৮ সালের বসন্তকাল থেকে প্রথম বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে এবং গ্রীষ্মকালে হ্রাস পায়। তবে দ্বিতীয় একটি তরঙ্গ ১৯১৮ সালের শরৎকালে এবং পরে ১৯১৯ সালের শুরুতে তৃতীয় তরঙ্গ আঘাত হানে।

দ্বিতীয় তরঙ্গটিকে সবচেয়ে মারাত্বক হিসেবে মনে করা হয় এবং বিশ্বজুড়ে কমপক্ষে ২ কোটি মানুষের মৃত্যুর জন্য সেটিকে দায়ী করা হয়।

১৯১৮ সালের শরৎকাল এবং ১৯২১ সালের বসন্তকালের মধ্যে জাপানে স্প্যানিশ ফ্লু’র প্রাদুর্ভাব তিনটি তরঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে। তৎকালীন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রেকর্ডে দেখা যায় যে মোট প্রায় ২ কোটি ৩৮ লক্ষ লোক এতে আক্রান্ত হন এবং ৩ লক্ষ ৯০ হাজার লোক মারা যান।

জাপানে ১৯১৮ সালের শরৎকালে প্রথম তরঙ্গের সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় যাতে ২ কোটি ১২ লক্ষ লোক সংক্রমিত হন এবং ২ লক্ষ ৬০ হাজার লোক মারা যান। ১৯১৯ সালের শরৎকাল থেকে দ্বিতীয় তরঙ্গ ছোট আকারের প্রাদুর্ভাব ঘটায় যাতে ২৪ লক্ষ লোক আক্রান্ত হন এবং ১ লক্ষ ৩০ হাজার লোক মারা যান। তবে, দ্বিতীয় তরঙ্গে মৃত্যুর হার ছিল সবচেয়ে বেশি।

বিশেষজ্ঞরা বর্তমানে সতর্ক করে দিচ্ছেন যে স্প্যানিশ ফ্লু’র মতো নতুন করোনাভাইরাস মহামারীরও দ্বিতীয় এবং তৃতীয় তরঙ্গ থাকতে পারে।

এ তথ্যগুলো জুনের ২৪ তারিখ পর্যন্ত নেয়া।

প্রশ্ন-৪৮: নতুন করোনাভাইরাস কোন অবস্থায় সংখ্যা বৃদ্ধি করে? এগুলো কি শুধুমাত্র আমাদের দেহের ভেতরেই সংখ্যা বৃদ্ধি করে?

আমরা সেন্ট মারিয়াননা বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অফ মেডিসিনের অধ্যাপক কুনিশিমা হিরোইয়ুকি’কে জিজ্ঞাসা করেছি। তিনি সংক্রামক রোগের একজন বিশেষজ্ঞ। কুনিশিমা বলছেন, ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়া হচ্ছে এমন কিছু অণুজীব যা রোগ সৃষ্টি করে থাকে।

ব্যাকটেরিয়া হচ্ছে একক কোষ নিয়ে গঠিত জীবনের একটি আদি রূপ। এগুলো নিজেরাই সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে।

ভাইরাস ব্যাকটেরিয়ার তুলনায় অনেক ছোট। এগুলোতে জিন বা নিউক্লিক এসিড এবং প্রতিরক্ষামূলক আবরণ থাকলেও এদের কোনও কোষ নেই। ভাইরাস নিজে থেকে সংখ্যা বৃদ্ধি করতে পারে না। তারা কেবল তাদের সংক্রমিত কোনও মানুষ বা প্রাণীর জীবিত কোষের ভিতরেই প্রতিলিপি তৈরি করতে পারে।

এর অর্থ হল দেয়াল এবং অন্যান্য পৃষ্ঠতলে লেগে থাকা নতুন করোনাভাইরাস সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে না। তবে আমরা জানি যে ভাইরাস কিছু সময়ের জন্য এই ধরনের পৃষ্ঠতলে তাদের সংক্রামক ক্ষমতা বজায় রাখে।

অধ্যাপক কুনিশিমা বলছেন, আপনার বাইরে থাকাকালীন দরজার হাতল ও হ্যান্ডরেলসহ ভাইরাস লেগে থাকা এই জাতীয় পৃষ্ঠতল স্পর্শ করার প্রবণতা থাকে। তিনি বলছেন, সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য আপনার বাড়িতে আসার পর বা অফিসে পৌঁছে অথবা খাওয়ার আগে হাত ধুয়ে বা অ্যালকোহল ভিত্তিক জীবাণুনাশক দ্বারা আপনার হাত পরিস্কার করে নেয়া উচিত।

এ তথ্যগুলো জুনের ২৪ তারিখ পর্যন্ত নেয়া।

প্রশ্ন-৪৭: নগদ অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে আপনি কি সংক্রমিত হতে পারেন?

আইচি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞ মিকামো হিরোশিগে বলছেন, অবস্থা ভাইরাসের পরিমাণের উপর নির্ভর করে। তিনি বলছেন, তবে কারও হাতে যদি ভাইরাস থাকে এবং সে অর্থ বা মুদ্রা স্পর্শ করে তাহলে এটা ধরে নেয়া ভাল যে ভাইরাস কিছু সময়ের জন্য অর্থের উপরে থাকবে। সংক্রমণ রোধ করার জন্য আপনার মুখ বা নাক স্পর্শ করার আগে আপনার হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে নেওয়া অথবা অ্যালকোহল বা অন্য স্যানিটাইজার দিয়ে জীবাণুমুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ। আপনার ক্রয় করা যে কোনও কিছু স্পর্শ করার পরেও এই পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করার জন্য অধ্যাপক পরামর্শ দিচ্ছেন।

এ তথ্যগুলো জুনের ২৩ তারিখ পর্যন্ত নেয়া।

প্রশ্ন-৪৬: নতুন করোনাভাইরাস কোন বস্তুর পৃষ্ঠতলে কতক্ষণ বেঁচে থাকতে পারে?

মার্কিন জাতীয় স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের গবেষকদের তৈরি করা একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে সময়ের সাথে সাথে ভাইরাস বিভিন্ন বস্তুর পৃষ্ঠতল থেকে যথেষ্ট পরিমাণে অদৃশ্য হয়ে যায়। এতে আরও বলা হয়েছে যে তামার উপরে থাকা ভাইরাস ৪ ঘণ্টা পর এবং কার্ডবোর্ডের উপরে থাকা ভাইরাস ২৪ ঘণ্টা পর আর শনাক্ত করতে পারা যায়নি।

তবে, প্লাস্টিকের উপর থাকা ভাইরাস ৭২ ঘণ্টা এবং স্টেইনলেস স্টিলের উপর ভাইরাস ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে।

এ তথ্যগুলো জুনের ২২ তারিখ পর্যন্ত নেয়া।

প্রশ্ন-৪৫: হিমায়িত থাকা অবস্থায় করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে কি ঘটে?

টোকিও স্বাস্থ্যসেবা বিশ্ববিদ্যালয় পোস্টগ্র্যাজুয়েট স্কুলের অধ্যাপক ও সংক্রমণ প্রতিরোধ বিশেষজ্ঞ সুগাওয়ারা এরিসা’র সাথে আমরা কথা বলেছি।

নতুন করোনাভাইরাসের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে এখনও অনেক বিষয় অজানা থাকলেও একই ধরনের আরেকটি করোনাভাইরাস, সার্স ভাইরাস নিয়ে ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক গবেষণা করা হয়েছে।

গবেষণা অনুযায়ী, ৫৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মত তুলনামূলক উচ্চ তাপমাত্রা সার্স ভাইরাসকে মেরে ফেলতে সক্ষম হলেও হিমাংকের নিচে মাইনাস ৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে এই ভাইরাস বেঁচে থাকতে সক্ষম হয়।

সমীক্ষাটি এমন ধারণা দিচ্ছে যে নতুন করোনাভাইরাস হয়ত তাপের বিপরীতে দুর্বল এবং নিম্ন তাপমাত্রায় এটি তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী।

সুগাওয়ারা বলছেন, উদাহরণস্বরূপ নতুন করোনাভাইরাস যদি মুদি দোকানের পণ্যের পৃষ্ঠতলে পাওয়া যায় তাহলে এটা ধরে নেয়া যায় যে রেফ্রিজারেটর এবং ফ্রিজারে তা বর্ধিত সময় পর্যন্ত বেঁচে থাকবে। লোকজনকে তাই কোন পণ্য রেফ্রিজারেটর ও ফ্রিজারে রাখার আগে সেটার মোড়কের বাইরের দিকটা জীবাণুমুক্ত করে নিতে এবং রান্নার আগে ও পরে হাত ভালভাবে ধুয়ে নিতে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। সুগাওয়ারা বলছেন গরম করা হলে বেশিরভাগ খাবারই নিরাপদে খাওয়া যাবে।

এ তথ্যগুলো জুনের ১৯ তারিখ পর্যন্ত নেয়া।

প্রশ্ন-৪৪: যদি কোনও খাবারের মোড়ক ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত হয়, তাহলে আমরা কি মাইক্রোওয়েভ ওভেনে মোড়কটি গরম করে ভাইরাস দূর করতে পারি?

মাইক্রোওয়েভ ওভেনে কোন কিছু গরম করতে খাবারের ভেতরে থাকা পানির অণুগুলোকে ঘূর্ণনের জন্য তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ ব্যবহৃত হয়।

টোকিও স্বাস্থ্যসেবা বিশ্ববিদ্যালয়ের পোস্টগ্র্যাজুয়েট স্কুলের অধ্যাপক ও সংক্রমণ প্রতিরোধ বিশেষজ্ঞ সুগাওয়ারা এরিসা বলছেন, কোন খাবারকে যদি মাইক্রোওয়েভ ওভেনে পর্যাপ্ত পরিমাণে গরম করা হয় তাহলে সেই খাবার খাওয়া নিরাপদ।

তবে তিনি উল্লেখ করেন, এমন কোন প্রমাণ নেই যে ওভেন খাবার মোড়কের পৃষ্ঠতলকে এতটা উত্তপ্ত করে যার ফলে মোড়কে থাকা ভাইরাস সংক্রামক ক্ষমতা হারাতে পারে।

সুগাওয়ারা বলছেন, রান্না এবং খাওয়ার আগে ও পরে ঘন ঘন হাত ধুয়ে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

এ তথ্যগুলো জুনের ১৮ তারিখ পর্যন্ত নেয়া।

প্রশ্ন-৪৩: এটা কি সত্যি যে যেসব দেশে যক্ষ্মার জন্য বিসিজি টিকা দেয়া হয়েছে সেসব দেশে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর ঘটনা কম হয়েছে?

বিসিজি টিকা তৈরি করা হয় গরুর যক্ষ্মা সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার একটি দুর্বল স্ট্রেইন থেকে যা মানুষের মধ্যে রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার মত একই ধরনের। জাপানে সকল শিশুর এক বছর বয়স হওয়ার আগেই বিসিজি টিকা দেয়া হয়। বিসিজি টিকা দেয়ার নীতিমালা দেশ ও অঞ্চল অনুযায়ী ভিন্ন হয়ে থাকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইতালি এমন সব দেশের মধ্যে রয়েছে যেখানে বিসিজি টিকা দেওয়ার কোন সর্বজনীন কর্মসূচি নেই।

জাপানের বাইরের কিছু গবেষক উল্লেখ করেছেন যে নিয়মিত বিসিজি টিকা কার্যক্রমের স্থানগুলোতে করোনাভাইরাসের কারণে কম মৃত্যু হয়েছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধ এবং এর লক্ষণগুলো গুরুতর হওয়া রোধ করার সাথে বিসিজি’র কোন সম্পর্ক আছে কিনা তা গবেষণা করে দেখতে অস্ট্রেলিয়া এবং নেদারল্যান্ডে ক্লিনিকাল ট্রায়াল চালানো হচ্ছে।

এপ্রিল মাসের ৩ তারিখ টিকাবিদ্যা বিষয়ক জাপানি সোসাইটি এই বিষয়ে তাদের মতামত উপস্থাপন করে।

সোসাইটি বলছে, ভাইরাসটির বিরুদ্ধে বিসিজি’র কার্যকারিতা সম্পর্কে এখনও বৈজ্ঞানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং এই মুহুর্তে তারা প্রতিরোধ পদক্ষেপ হিসেবে টিকা দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে না।

সোসাইটি বলছে, প্রবীণ প্রজন্মের কিছু ব্যক্তি যাদের বিসিজি টিকা দেয়া হয়নি করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষা পেতে তাদেরকে টিকা দিতে অনুরোধ করছেন। তবে সোসাইটি বলছে, বিসিজি হচ্ছে শিশুদের একটি টিকা এবং প্রবীণদের জন্য এর কার্যকারিতা ও সুরক্ষার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সোসাইটি আরও বলছে, সুনির্দিষ্ট প্রয়োগের বাইরে বিসিজি ব্যবহার বৃদ্ধি করা এড়ানো প্রয়োজন, কারণ তা না হলে শিশুদের টিকার স্থিতিশীল সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে।

এ তথ্যগুলো জুনের ১৭ তারিখ পর্যন্ত নেয়া।

প্রশ্ন-৪২: মানুষের ত্বকে থাকা করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে কী ঘটে?” এবং “ব্যক্তি কোন উপসর্গ বা লক্ষণ প্রদর্শন না করলেও এই ভাইরাস কী শরীরে থাকে?

আমরা সেন্ট মারিয়াননা ইউনিভার্সিটি স্কুল অফ মেডিসিনের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক কুনিশিমা হিরোইয়ুকি’কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বলছেন, কোনও জীবন্ত প্রাণীর কোষে প্রবেশ এবং সংক্রমিত না করে ভাইরাসটি নিজের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে পারে না।

নতুন করোনাভাইরাস প্রধানত মানুষের নাক বা মুখের ঝিল্লির মাধ্যমে তাদেরকে সংক্রমিত করে এবং গলা, ফুসফুস এবং অন্যান্য স্থানের কোষে সংখ্যাবৃদ্ধি করে বলে জানা যায়। ভাইরাস কেবল কারও হাত বা পায়ের পৃষ্ঠতলে থাকলে সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে না।

তবে কারও হাতে ভাইরাস লেগে থাকলে এবং তার চোখ, নাক বা মুখ স্পর্শ করলে সে সংক্রমিত হতে পারে। কোনও ব্যক্তির ত্বকে থাকা ভাইরাস সাবান দিয়ে ধুয়ে দূর করা যায়, তাই লোকজনের উচিত তাদের মুখ স্পর্শ করার আগে হাত ভাল করে ধোয়া বা অ্যালকোহলের মতো জীবাণুনাশক ব্যবহার করে পরিস্কার থাকা।

জলবসন্তের সৃষ্টিকারী হার্পিসের মত কিছু ভাইরাস কোন আক্রান্ত ব্যক্তি সুস্থ হয়ে যাওয়ার পরেও মানব দেহে থেকে যায়। তবে সাধারণত, করোনাভাইরাস ভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। তাই যদি কেউ সংক্রমিত হয় এবং উপসর্গ বা লক্ষণ প্রদর্শন করে তাহলে শেষ পর্যন্ত ব্যক্তির রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা কাজ করে এবং ভাইরাস শরীর থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়।

এ তথ্যগুলো জুনের ১৫ তারিখ পর্যন্ত নেয়া।

প্রশ্ন-৪১: “অতিবেগুনি রশ্মি বা ওজোন গ্যাসের সংস্পর্শে আসলে করোনাভাইরাস কী মারা যায়?”

হিরোশিমা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ওওগে হিরোকি’র সাথে আমরা কথা বলেছি। ওওগে বলছেন, এমন প্রত্যাশা রয়েছে যে বিভিন্ন রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে উচ্চ মাত্রায় নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের অতিবেগুনি রশ্মি ব্যবহার করা হলে সেগুলোর সংক্রামক ক্ষমতা হ্রাসের ক্ষেত্রে তা কার্যকর হয়।

অত্যন্ত কার্যকর অতিবেগুনি রশ্মি নির্গমনকারী যে ডিভাইসগুলো ইতোমধ্যে প্রায়োগিক ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে সেগুলো নতুন করোনাভাইরাস মোকাবিলায় কার্যকর হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। হিরোশিমা বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে করোনাভাইরাস রোগী থাকা হাসপাতাল কক্ষগুলো থেকে রোগী চলে যাওয়ার পর একটি ডিভাইস ব্যবহার করা হচ্ছে, যা পুরো কক্ষজুড়ে এরকম অতিবেগুনি রশ্মি নিঃসরণ করে থাকে।

এদিকে, উপরিল্লিখিত ডিভাইসের মাধ্যমে ধ্বংস করতে পারা ভাইরাসকে মারার ক্ষেত্রে সূর্যরশ্মি অকার্যকর বলে ধারণা করা হয়। সূর্যালোকে অতিবেগুনি রশ্মি থাকলেও তার মধ্যে বিভিন্ন শক্তির রশ্মি রয়েছে এবং সেগুলো এরকম ডিভাইসের দ্বারা তৈরি রশ্মির মতো শক্তিশালী নয়।

ওজোন গ্যাসের ক্ষেত্রে, জাপানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষকের মে মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন করোনাভাইরাসকে প্রায় এক ঘন্টা ধরে উচ্চমাত্রার ঘন ওজোন গ্যাসের সংস্পর্শে রাখার পর তারা দেখতে পেয়েছেন যে ভাইরাসের সংক্রামক ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। ওওগে বলছেন, পরীক্ষার জন্য ব্যবহৃত ওজোন গ্যাসের ঘনত্ব ছিল ১ পিপিএম থেকে ৬ পিপিএমের মধ্যে যা মানুষের জন্য ক্ষতিকারক বলে মনে করা হয়।

সাধারণ ব্যবহারের জন্য বিক্রি করা জীবাণুমুক্তকরণ ও দুর্গন্ধমুক্তকরণে ওজোন গ্যাস ব্যবহার করা ডিভাইসগুলোতে ঐরকম উচ্চ ঘনত্বের ওজোন গ্যাস ব্যবহৃত হয় না। তবে এই ধরনের কম ঘনত্বের ওজোন গ্যাস নতুন করোনাভাইরাস মোকাবিলায় কার্যকর কিনা সেটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

জাপানের ভোক্তা বিষয়ক এজেন্সি উৎপাদকদের যদি ওজন গ্যাস ব্যবহার করা পণ্যসহ অন্যান্য পণ্য করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর বলে দাবি করার কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি থাকে তবে সেটা উৎপাদকদের কাছ থেকে নিশ্চিত করে নিতে ব্যবহারকারীদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।

প্রশ্ন-৪০: “গ্রীষ্মের সময় মাস্ক পরার ক্ষেত্রে কী সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত?”

উত্তর গোলার্ধ গ্রীষ্মের পুরো উত্তাপ অনুভব করতে চলেছে। স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, করোনাভাইরাস মোকাবিলায় নেওয়া একটি পদক্ষেপ হিসেবে অনেক ব্যক্তি মাস্ক পড়ায় এবছর হিটস্ট্রোক মোকাবিলায় আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

মন্ত্রণালয় পর্যাপ্ত সামাজিক দূরত্ব (অন্তত ২ মিটার) নিশ্চিত করা গেলে লোকজনকে তাদের মাস্ক খুলে রাখতে পরামর্শ দিচ্ছে।মাস্ক পড়া অবস্থায় কঠোর পরিশ্রমের কাজ কিংবা ব্যায়াম এড়িয়ে চলতে লোকজনের প্রতি তারা আহ্বান জানাচ্ছে। এমনকি তৃষ্ণার্ত না হলেও লোকজনকে ঘন ঘন পানি পান করার পরামর্শ দিচ্ছে মন্ত্রণালয়।

নিপ্পন মেডিকেল স্কুল গ্র্যাজুয়েট স্কুলের অধ্যাপক ইয়োকোবোরি শোজি’র হিটস্ট্রোক সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান রয়েছে। তিনি বলছেন, মাস্ক পড়লেই যে একজন ব্যক্তি হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার মত সংবেদনশীল হয়ে পড়বেন বিষয়টি তেমন নয়। তবে তিনি বলছেন, মাস্ক পড়লে শ্বাস নেয়া কঠিন হয়ে যায়। এমন উপাত্ত রয়েছে যা প্রদর্শন করে যে মাস্ক পরা অবস্থায় হৃদস্পন্দন এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের হার ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। অধ্যাপক ইয়োকোবোরি উল্লেখ করছেন ব্যায়ামের অতিরিক্ত বোঝা বা বাতাসের তাপমাত্রা বৃদ্ধি হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

অধ্যাপক ইয়োকোবরি বলছেন, সম্ভাব্য বায়ুবাহী সংক্রমণ রোধ করা গুরুত্বপূর্ণ, তবে বয়স্ক ব্যক্তি বা একা বসবাসকারী ব্যক্তিদের বিশেষত হিটস্ট্রোকের বিষয়ে সতর্ক হওয়া উচিত। বাইরে থাকার সময়, তিনি লোকজনকে মাস্ক খুলে গাছের নীচের মত ভিড় নেই এমন স্থানে বিশ্রাম নেয়ার পরামর্শ দেন। স্যাঁতস্যাঁতে মাস্কের ভিতর দিয়ে কম বায়ু চলাচল করার কারণে ঘেমে যাওয়ার পরে মাস্ক বদলে নেওয়ার পরামর্শও দেন তিনি।

এ তথ্যগুলো জুনের ১১ তারিখ পর্যন্ত নেয়া।

প্রশ্ন-৩৯: “শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ব্যবহার করার সময় আমাদের কী সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত?”

উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল শুরু হওয়ায় কিছু ব্যক্তি হয়ত শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্থানে বায়ুচলাচল সম্পর্কে উদ্বিগ্ন হতে পারেন। বাড়িঘরে ব্যবহৃত শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের বেশিরভাগ ঘরের ভেতর থাকা বাতাসকে পুনঃসঞ্চালন করে এবং সেগুলোতে বায়ুচলাচলের ব্যবস্থা থাকে না। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ব্যবহারের সময় অনেক ব্যক্তিই সম্ভবত জানালা বন্ধ রাখেন।

টোকিও পলিটেকনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ইয়ামামোতো ইয়োশিহিদে হলেন জাপানের স্থাপত্যবিদ্যা ইনস্টিটিউটের একজন সদস্য। তাঁর পড়াশোনার মূল বিষয়ের মধ্যে স্থাপনার ভিতর বায়ু চলাচল অন্তর্ভুক্ত। তিনি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র এবং প্রাকৃতিক বায়ুচলাচল সমন্বয় করার প্রস্তাব করেছেন।

চার মৌসুম থাকা অঞ্চলে, ইয়ামামোতো গ্রীষ্মের শুরুতে খুব বেশি গরম অনুভূত না হওয়া সময়ে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ব্যবহার করার সময় জানালা আংশিক খোলার পরামর্শ দেন যাতে করে বাইরে থেকে বাতাস ঘরে প্রবেশ করতে পারে। ঘর খুব বেশি গরম হয়ে গেলে জানালা অল্প সময়ের জন্য বন্ধ রেখে অথবা জানালা আংশিক খোলা রেখে বায়ু শীতল করুন।

গ্রীষ্মের মাঝামাঝি সময়ে যখন হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়, ইয়ামামোতো তখন জানালা খোলার পরিবর্তে ঘরের টয়লেট বা রান্নাঘরের মধ্যে থাকা ভেন্টিলেটিং ফ্যানের সক্রিয় ব্যবহারের পরামর্শ দেন। এটি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

বেশিরভাগ বাড়ি এমনভাবে নকশা করা হয় যাতে ভেন্টিলেটিং ফ্যান ব্যবহার করার সময় বাইরে থেকে বাতাস ঘরে ঢুকতে পারে। এর ফলে জানালা বন্ধ থাকা সত্ত্বেও একটি স্থাপনার ভিতরে এবং বাইরে বায়ু প্রবাহের সৃষ্টি করবে। আপনার বাড়িতে বায়ুচলাচল কীভাবে কাজ করে তা জানতে অনুগ্রহ করে একজন বিশেষজ্ঞকে জিজ্ঞাসা করুন।

এ তথ্যগুলো জুনের ১০ তারিখ পর্যন্ত নেয়া।

প্রশ্ন-৩৮: যদি আমি কোভিড-১৯ সম্পর্কিত বৈষম্যের শিকার হই কিংবা কাউকে বৈষম্যের শিকার হতে দেখি তাহলে আমার কার সাথে পরামর্শ করা উচিত?

আমাদের এবারের প্রশ্নটি এসেছে জাপানে বসবাসরত বিদেশিদের কাছ থেকে।

অনুগ্রহ করে বহুভাষিক পরামর্শ কেন্দ্র, ইয়োরিসোই হটলাইন’এ কেন্দ্রটির ওয়েবসাইটের মাধ্যমে যোগাযোগ করুন:
https://www.since2011.net/yorisoi/n2/
*এনএইচকে ওয়ার্ল্ড-জাপান ওয়েবসাইট থেকে বেরিয়ে যেতে

কেন্দ্রটির টোলমুক্ত নম্বর হচ্ছে ০১২০-২৭৯-৩৩৮।

ইওয়াতে, মিইয়াগি এবং ফুকুশিমা জেলার জন্য ০১২০-২৭৯-২২৬।

অথবা, এর ফেসবুক পেজ:
https://www.facebook.com/yorisoi2foreign
*এনএইচকে ওয়ার্ল্ড-জাপান ওয়েবসাইট থেকে বেরিয়ে যেতে

আপনি নিচেরগুলো থেকেও সহায়তা পাবেন:
ব্যাকস্টোরিজ: জাপানে বহুভাষিক করোনাভাইরাস হটলাইন
https://www3.nhk.or.jp/nhkworld/en/news/backstories/1019/

আমাদের পরবর্তী প্রশ্ন “আমার সঙ্গী আমাকে নির্যাতন করছে। সহায়তার জন্য আমি কার কাছে যাব?”

উত্তর: পারিবারিক সহিংসতা বা ডিভি’র শিকার ব্যক্তিদের কাছে ফোন ও সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে পরামর্শ নেয়া সহ বিভিন্ন উপায় রয়েছে যার দ্বারস্থ তারা হতে পারেন। আপনি অনসাইট দোভাষী সেবা এবং নিরাপদ আশ্রয়ের তথ্যও পেতে পারেন।

সামাজিক মাধ্যম সম্পর্কিত পরামর্শ ১১টি ভাষায় ২৪ ঘণ্টা পাওয়া যাচ্ছে।

অনুগ্রহ করে https://soudanplus.jp/language.html ভিজিট করুন।
*এনএইচকে ওয়ার্ল্ড-জাপান ওয়েবসাইট থেকে বেরিয়ে যেতে

স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সহিংসতা সম্পর্কিত পরামর্শ ও সহায়তা কেন্দ্র।
এর ফোন নম্বর হল ০৫৭০-০-৫৫২১০ যা শুধুমাত্র জাপানি ভাষায়।
এটি আপনার নিকটতম পরামর্শ কেন্দ্রের সাথে আপনাকে যুক্ত করবে।

পারিবারিক সহিংসতা সম্পর্কিত হটলাইন প্লাস:
অনুগ্রহ করে ০১২০-২৭৯-৮৮৯ নম্বরে কল করুন তবে এটিও শুধুমাত্র জাপানি ভাষায়।

আমাদের পরবর্তী প্রশ্ন “আমি গর্ভবতী। আমার কি উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত?”

উত্তর: এখন পর্যন্ত যে প্রমাণ পাওয়া গেছে তাতে এমনটা আভাষ পাওয়া যায় যে গর্ভবতী নারীর অন্য সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির তুলনায় গুরুতর অসুস্থ হওয়ার বেশি ঝুঁকি না থাকলেও গর্ভাবস্থার তৃতীয় ত্রৈমাসিকের সময় করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হলে গর্ভবতী নয় এমন নারীদের মতই তার একই অগ্রগতি এবং তীব্রতা থাকতে পারে।
উপাত্ত এটা প্রদর্শন করছে যে আপনার গর্ভাবস্থার সময় কোভিড-১৯ সম্পর্কে অনেক বেশি উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে আপনার ভিড় এড়ানো, নিয়মিত হাত ধোয়া এবং আপনার প্রতিদিনকার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়ার মত প্রতিরোধী ব্যবস্থা গ্রহণ করা অব্যাহত রাখা উচিত।

আরও তথ্যের জন্য, নিচের বহুভাষিক লিংক-এ যান:
https://share.or.jp/english/news/for_pregnant_womencovid-19_countermeasures.html
*এনএইচকে ওয়ার্ল্ড-জাপান ওয়েবসাইট থেকে বেরিয়ে যেতে

আমাদের স্থানীয় প্রোগ্রাম ‘হার্ট নেট টিভি’র সহজ জাপানি ভাষার সংস্করণের জন্য নীচের লিংক-এ যান।
লিংক: https://www.nhk.or.jp/heart-net/article/339
*এনএইচকে ওয়ার্ল্ড-জাপান ওয়েবসাইট থেকে বেরিয়ে যেতে

প্রশ্ন-৩৭: “আমার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও আমি কি তিন মাসের বর্ধিত সময়ে কাজ চালিয়ে যেতে পারব?”

জাপানে বিদেশি নাগরিকদের ভিসা নবায়নের আবেদনের প্রেক্ষিতে অধিবাসী মর্যাদা পরিবর্তন এবং অবস্থানের মেয়াদ বৃদ্ধি, উভয় ক্ষেত্রে তিন মাস বর্ধিত করা হচ্ছে। আমাদের এবারের প্রশ্নটি এসেছে জাপানে বসবাসরত বিদেশিদের কাছ থেকে। এর উত্তর হল ‘হ্যা’। আপনি নির্দিষ্ট কয়েকটি শর্তের অধীনে কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন। অভিবাসন সেবা এজেন্সি জুন মাসের ২ তারিখ এনএইচকে ওয়ার্ল্ড-জাপান’কে জানায় যে এই বিশেষ বর্ধিত সময়ে আপনি আপনার আগের অধিবাসী মর্যাদার ক্ষেত্রে যেসব শর্তের অধীনে কাজ করার অনুমতি পেতেন সে অনুযায়ীই পাবেন। তবে, আপনার যদি কাজের ধরন এবং নিয়োগকারী সহ কোন শর্ত পরিবর্তন করার প্রয়োজন দেখা দেয় তাহলে অবশ্যই প্রথমে আপনি অভিবাসন সেবা এজেন্সির সাথে পরামর্শ করে নিবেন।

আমাদের পরবর্তী প্রশ্ন “আমি যদি আর কাজ না করতে পারি বা পড়াশুনা না চালাতে পারি তাহলে কি আমাকে বর্তমানের কাজ কিংবা খণ্ডকালীন কাজের অনুমতিসহ শিক্ষার্থী হিসেবে অধিবাসী মর্যাদা হারাতে হবে?”

এর উত্তর হল ‘না’। করোনাভাইরাসের প্রভাবে আপনি যদি কাজ করতে বা পড়াশুনা চালিয়ে যেতে অসমর্থ হন তাহলে আপনার অধিবাসী মর্যাদা বাতিল করা হবে না। তবে আপনাকে অবশ্যই নিচের যেকোন একটি দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার বিষয়টি প্রমাণ করতে হবে।

১. আপনার নিয়োগদাতা অথবা আপনার নিজস্ব কোম্পানিকে অবশ্যই ব্যবসায়িক কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হবে।
২. আপনি অবসর নিয়েছেন এবং অনলাইনের মাধ্যমে কাজের খোঁজ করছেন অথবা কাজ খুঁজে পেয়েছেন কিন্তু সেই কোম্পানিতে যেতে পারছেন না।
৩. আপনি যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হবেন তা বন্ধ থাকার ঘটনাসহ আপনি যে প্রতিষ্ঠানে ভর্তি রয়েছেন তা যদি বন্ধ থাকে।
৪. আপনি যে প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়েছিলেন তা যদি বন্ধ থাকে এবং অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে আপনার ভর্তির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পালন করতে না পারেন।
৫. কোভিড-১৯ সহ অসুস্থতার ক্ষেত্রে হাসপাতালে অবস্থান দীর্ঘ হলে এবং আপনাকে অসুস্থতার জন্য আবশ্যিকভাবে ছুটি নিতে হলে।

অনুগ্রহ করে নিচের পেজে যান, তবে এটি শুধু মাত্র জাপানি ভাষায় রয়েছে। এবং কোন বিষয়ে সন্দেহ থাকলে অভিবাসন সেবা এজেন্সিতে সরাসরি যোগাযোগ করে নিশ্চিত হয়ে নিন।

http://www.moj.go.jp/content/001319592.pdf
*এনএইচকে ওয়ার্ল্ড-জাপান ওয়েবসাইট থেকে বেরিয়ে যেতে

এ তথ্যগুলো জুনের ৫ তারিখ পর্যন্ত নেয়া।

প্রশ্ন-৩৬: জাপানে বসবাসের ‘অস্থায়ী দর্শনার্থী’ অধিবাসী মর্যাদার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও যদি কেউ দেশে ফিরে যেতে সক্ষম না হন তাহলে কি ঘটবে?

আমাদের এবারের প্রশ্নটি এসেছে জাপানে বসবাসরত বিদেশিদের কাছ থেকে। এক্ষেত্রে ভিসার মেয়াদ ৯০ দিন বর্ধিত করা হবে।

বিস্তারিত জানতে নিচের লিংকটি ভিজিট করুন।

http://www.moj.go.jp/content/001316293.pdf
*এনএইচকে ওয়ার্ল্ড-জাপান ওয়েবসাইট থেকে বেরিয়ে যেতে

আমাদের পরবর্তী প্রশ্ন “ভিসার মেয়াদ যদি মার্চ এবং জুলাই মাসের মধ্যে শেষ হয়ে যায় তাহলে সেটা কি স্বয়ংক্রিয়ভাবে তিন মাস সময়ের জন্য বর্ধিত হয়ে যাবে?”

এর উত্তর হল ‘না’। তবে বিদেশি নাগরিকদের ভিসা নবায়নের আবেদনের প্রেক্ষিতে অধিবাসী মর্যাদা পরিবর্তন এবং অবস্থানের মেয়াদ বৃদ্ধি, উভয় ক্ষেত্রে তিন মাস বর্ধিত করা হচ্ছে। অভিবাসন কাউন্টারে ভিড় কমাতে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। যাদের ভিসার মেয়াদ চলতি বছরের মার্চ থেকে জুলাই মাসের মধ্যে শেষ হয়েছে শুধুমাত্র তারাই এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। আবেদন করার জন্য বর্ধিত সময় হিসেবে জাপানে অবস্থানের সময়কালের শেষ দিন থেকে তিন মাস পর্যন্ত সময় পাওয়া যাবে। অন্যভাবে বলা যায়, ভিসার মেয়াদ যদি মে মাসের ১১ তারিখে শেষ হয়ে যায় তাহলে সময় বর্ধিত করার আবেদন করার জন্য আগস্ট মাসের ১১ তারিখ পর্যন্ত সময় পাওয়া যাবে।

বহুভাষায় তথ্য জানতে নিচের লিংক ভিজিট করুন।

http://www.moj.go.jp/content/001316300.pdf
*এনএইচকে ওয়ার্ল্ড-জাপান ওয়েবসাইট থেকে বেরিয়ে যেতে

এ তথ্যগুলো জুনের ৪ তারিখ পর্যন্ত নেয়া।

ভিসা আবেদন পদ্ধতির পরিবর্তন হতে পারে, বিশেষ করে বর্তমান করোনাভাইরাস পরিস্থিতির মধ্যে।

ব্যক্তিগত ঘটনার ক্ষেত্রে ভিন্নতা দেখা যায়, তাই অনুগ্রহ করে আপনার কোন প্রশ্ন থাকলে অভিবাসন দপ্তরে যোগাযোগ করুন।

প্রশ্ন-৩৫: সর্বোচ্চ কত তাপমাত্রা পর্যন্ত করোনাভাইরাস বেঁচে থাকে এবং রান্না করা খাবার কি একে মারতে পারে?

গবেষকরা বলেছেন যে নতুন করোনাভাইরাস ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে একদিন পর্যন্ত বাঁচতে পারে। তবে ৫৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এটি ৩০ মিনিটের মধ্যে মারা যায়।

তারা দেখেন যে ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পাঁচ মিনিটের মধ্যেই একে আর সনাক্ত করা যায়না।

জাপান সোসাইটির সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং নিয়ন্ত্রনের সুগাওয়ারা ইরিসা বলেছেন পর্যাপ্ত তাপমাত্রায় রান্না করা হলে ভাইরাস মরে যায় এবং গরম করা খাবার থেকে ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়ায় এমন কোন নিশ্চিত খবর তাদের কাছে নেই।

এ তথ্যগুলো জুন মাসের ১ তারিখ পর্যন্ত নেয়া।

প্রশ্ন-৩৪: বাড়ি ভাড়া পরিশোধ করতে হিমশিম খেলে কী করণীয়?

করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে যেসব লোকজন তাদের চাকরি হারিয়েছেন বা যাদের আয় হ্রাস পেয়েছে তারা বাড়ি ভাড়া পরিশোধের জন্য আর্থিক সহায়তা চেয়ে আবেদন করতে পারেন।

পারিবারিক আয় এবং সঞ্চয়ের উপর ভিত্তি করে সহায়তা লাভের যোগ্যতা নির্ধারণ করা হবে।

আর্থিক সহায়তা শুধুমাত্র বাড়ি ভাড়ার জন্য পাওয়া যাবে। গৃহ ঋণের জন্য নয়।

৩ মাসের বাড়ি ভাড়ার জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। তবে ক্ষেত্র বিশেষে যদি শর্তাবলী পূরণ করা হয় তবে সর্বোচ্চ ৯ মাস পর্যন্ত এ সহায়তা পাওয়া যেতে পারে।    

এ আর্থিক সহায়তা পুনরায় শোধ করতে হবে না।

আবেদন করার পূর্বে মিউনিসিপ্যাল সেলফ সাপোর্ট সেন্টারের সাথে ফোনের মাধ্যমে পরামর্শ করতে হবে। পরামর্শ শুধুমাত্র জাপানি ভাষায় পাওয়া যাচ্ছে।

সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত প্রতিদিন শুধুমাত্র জাপানি ভাষায় কল সেন্টার থেকে সেবা পাওয়া যাচ্ছে। ফোন নম্বর হলো- ০১২০-২৩-৫৫৭২।

এ তথ্যগুলো মে মাসের ২৫ তারিখ পর্যন্ত নেয়া।

আরো তথ্যের জন্য, অনুগ্রহ করে ভিজিট করুন:
*এনএইচকে ওয়ার্ল্ড-জাপান ওয়েবসাইট থেকে বেরিয়ে যেতে
ইংরেজি:
https://www.mhlw.go.jp/content/000630855.pdf

কোরীয়:
https://www.mhlw.go.jp/content/000630856.pdf

চাইনিজ:
https://www.mhlw.go.jp/content/000630857.pdf

ভিয়েতনামি:
https://www.mhlw.go.jp/content/000630861.pdf

পর্তুগীজ:
https://www.mhlw.go.jp/content/000630862.pdf

স্পেনীয়:
https://www.mhlw.go.jp/content/000630863.pdf

প্রশ্ন-৩৩: জাপানে করোনাভাইরাস আর্থিক সহায়তা কর্মসূচির জন্য কিভাবে আবেদন করতে হবে?

করোনাভাইরাসের কারণে কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার দরুণ যেসব পরিবার জীবনধারণের ব্যয় নির্বাহে হিমশিম খাচ্ছেন তাদের জন্য প্রত্যেক জেলার সমাজ কল্যাণ কাউন্সিল একটি কল্যাণ তহবিল ঋণ কর্মসূচি চালু করেছে। এটি একটি ঋণ এবং অবশ্যই তা পরিশোধ করতে হবে।

অস্থায়ী কাজ বন্ধ থাকায় যেসব পরিবারের আয় হ্রাস পেয়েছে মূলত: তাদের জন্য “জরুরি ক্ষুদ্র আর্থিক তহবিল”। এখান থেকে ২ লক্ষ ইয়েন পর্যন্ত ঋণ পাওয়া যাবে।

যেসব পরিবারের সদস্যরা এখন কর্মহীন অথবা যাদের আয় হ্রাস পেয়েছে তাদের জন্য মূলত “সাধারণ সহায়তা তহবিল”।

দু’জন বা ততোধিক সদস্যের পরিবারের জন্য এক মাসে ঋণের সর্বোচ্চ সীমা ২ লক্ষ ইয়েন। একজন সদস্যের জন্য এ ঋণের পরিমাণ দেড় লাখ ইয়েন।

নীতিগতভাবে ঋণের সময়সীমা ৩ মাসের মধ্যে থাকে।

এক্ষেত্রে যোগাযোগের জন্য কল সেন্টারে প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত ফোন করা যাবে, তবে সেবা পাওয়া যাবে শুধুমাত্র জাপানি ভাষায়। ফোন নম্বর হলো- ০১২০-৪৬-১৯৯৯(জাপানের ফোন নম্বর)।

এ তথ্যগুলো মে মাসের ২২ তারিখ পর্যন্ত নেয়া।

আরো তথ্যের জন্য:
*এনএইচকে ওয়ার্ল্ড-জাপান ওয়েবসাইট থেকে বেরিয়ে যেতে
শুধুমাত্র জাপানি:
https://www.mhlw.go.jp/content/000621849.pdf

ইংরেজি:
https://www.mhlw.go.jp/content/000621221.pdf

কোরীয়:
https://www.mhlw.go.jp/content/000621222.pdf

চাইনিজ (সরলীকৃত):
https://www.mhlw.go.jp/content/000621223.pdf

ভিয়েতনামি:
https://www.mhlw.go.jp/content/000621224.pdf

পর্তুগীজ:
https://www.mhlw.go.jp/content/000621225.pdf

স্পেনীয়:
https://www.mhlw.go.jp/content/000621226.pdf

প্রশ্ন-৩২: “পোষা প্রাণী করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হলে কী করণীয়?”

গৃহপালিত বিড়ালের মাধ্যমে করোনাভাইরাস স্থানান্তরিত হয় এমন একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর লোকজন এ সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য জানতে চাচ্ছেন। টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সায়েন্স ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক কাওয়াওকা ইয়োশিহিরো এবং উইস্কন্সিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্যরা মিলে তিনটি বিড়ালকে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত করেন এবং প্রত্যেকটিকে আলাদা বাড়িতে অসংক্রমিত বিড়ালের সাথে রাখেন।

গবেষকরা জানান সংক্রমিত বিড়ালগুলোর মধ্যে কোন উপসর্গ দেখা যায়নি। তবে প্রত্যেকটি বিড়ালের নাকের সোয়াবে ভাইরাস সনাক্ত হয়েছে। তিনটি বিড়ালের দু’টির ক্ষেত্রে পরপর ৬ দিন ভাইরাস পরীক্ষায় পজেটিভ ফলাফল আসে।

দলটি জানায় তারা তিনটি অসংক্রমিত বিড়ালকে একই বাড়িতে ঐ তিনটি সংক্রমিত বিড়ালের সাথে রাখেন। তারপর ছয় দিন পর পরীক্ষা করে দেখা যায় যে ঐ তিনটি অসংক্রমিত বিড়ালও ভাইরাস পজিটিভ। যা নির্দেশ করে যে ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়েছে।

দলটি বলছে এ ফলাফল এটা নির্দেশ করে যে করোনাভাইরাস শ্বসনযন্ত্রের মাধ্যমে দ্রুত বহুগুণে বৃদ্ধি পায় এবং বিড়ালের মাধ্যমে ছড়াতে পারে।

গবেষকরা বলেন যেহেতু ভাইরাসে সংক্রমিত বিড়ালের মধ্যে কোন উপসর্গ দেখা দেয় না এবং এটি তার মালিকের জানার অগোচরে ভাইরাস ছড়াতে পারে। তাই গবেষকরা পোষা বিড়ালকে বাড়িতে রাখার জন্য পরামর্শ দেন।

এ তথ্যগুলো মে মাসের ২১ তারিখ পর্যন্ত নেয়া।

প্রশ্ন-৩১: খাবার বিস্বাদ লাগার মতো উপসর্গ দেখা দিলে কী করণীয়?

জাপানের সেন্ট লিউকস আন্তর্জাতিক হাসপাতালের একজন সংক্রমণ বিশেষজ্ঞ সাকামোতো ফুমিয়ে নতুন করোনাভাইরাস সম্পর্কে বারবার জিজ্ঞাসা করা প্রশ্নের উত্তর দিবেন।
সাকামোতো বলেছেন যে প্রায় ৩০ শতাংশ বা তার কাছাকাছি করোনাভাইরাস রোগী খাবার বিস্বাদ লাগা বা খাবারের সুঘ্রাণ না পাবার মতো অভিজ্ঞতা হবার কথা বলেছেন। তবে অন্যান্য সংক্রমণ রোগে সংক্রমিত হওয়ার ক্ষেত্রেও একই ধরণের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। কিছু সময় উপসর্গ পর্যবেক্ষণ করার পর, অব্যাহতভাবে জ্বর বা শ্বাসকষ্ট থাকলে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার কথা বিবেচনা করতে হবে।

প্রশ্ন-৩০: মহামারীর মধ্যে শিশুদের বাইরে বন্ধুদের সাথে কাটানো কতটা ঝুঁকিপূর্ণ?

জাপানের সেন্ট লিউকস আন্তর্জাতিক হাসপাতালের একজন সংক্রমণ বিশেষজ্ঞ সাকামোতো ফুমিয়ে নতুন করোনাভাইরাস সম্পর্কে বারবার জিজ্ঞাসা করা প্রশ্নের উত্তর দিবেন। দেশজুড়ে দীর্ঘদিন ধরে স্কুল বন্ধ থাকার সময়ে কিছু প্রাথমিক এবং জুনিয়র হাই স্কুল তাদের খেলার মাঠ সময় কাটানোর জন্য শিশুদের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে। যদিও কিছু অভিভাবক দীর্ঘদিন বাড়িতে থাকার দরুণ সৃষ্ট চাপ কমাতে শিশুরা তাদের বন্ধুদের সাথে সময় কাটাক এটা চান, তবে এতে সংক্রমণের ঝুঁকি আছে কিনা তা ভেবেও তারা উদ্বিগ্ন।

সাকামোতো বলেছেন যদি অভিভাবকেরা কিছু বিষয়ের প্রতি খেয়াল রাখেন যেমন সময় কাটানোর জন্য যতটা সম্ভব শিশুদের সংখ্যা কম রাখা এবং অল্প সময়ের মধ্যে খেলা শেষ করার পাশাপাশি বাড়িতে ফিরলে তাদের হাত ধোয়ার কথা বলা তবে খুব বড় সমস্যা না হওয়ারই কথা।

এ তথ্যগুলো মে মাসের ১৩ তারিখ পর্যন্ত নেয়া।

প্রশ্ন-২৯: জাপান সরকার কিভাবে করোনাভাইরাসের পরীক্ষার মানদন্ড পরিবর্তন করে নিয়েছে এবং কেন?

নতুন করোনাভাইরাস সম্পর্কে শ্রোতাদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন আমাদের বিশেষজ্ঞরা। জাপানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জনগণের জন্য করোনাভাইরাস পরীক্ষার মানদন্ড সংশোধন করেছে।

পুরোনো মানদন্ডে বলা হয়েছিল যে যদি কোন ব্যক্তির চার দিন ধরে ৩৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার থেকে বেশি জ্বর থাকে তবে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে।

নতুন মানদন্ডে কোন নির্দিষ্ট তাপমাত্রার কথা বলা হয়নি। এর পরিবর্তে বলা হয়েছে যেসব ব্যক্তির শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ক্লান্তি, অথবা উচ্চ তাপমাত্রা এবং চারদিন বা তার বেশি সময় ধরে কাশি, জ্বর ও অন্যান্য ঠান্ডা জনিত মৃদু উপসর্গ রয়েছে তাদের চিকিৎসা সহায়তা চাইতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা এটা ভেবে উদ্বিগ্ন যে পুরোনো মানদন্ড খুবই সংক্ষিপ্ত ও কঠোর এবং এর ফলে খুবই কম সংখ্যক ব্যক্তি পরীক্ষার আওতায় আসছিল।  

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে প্রতিদিন ১৭ হাজারেরও বেশি পরীক্ষা করার সক্ষমতা তাদের রয়েছে। তবে বাস্তবে দেখা গেছে এ সংখ্যা থেকে তারা বেশ দূরে, প্রতিদিন প্রায় ৯ হাজার করে তারা পরীক্ষা করছে।

সেনদাই মেডিকেল সেন্টারের ভাইরাস গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক নিশিমুরা হিদেকাযু বলেছেন নতুন মানদন্ড অনেক সহায়ক হবে।

নিশিমুরা বলেন, নতুন মানদন্ড ডাক্তারদের যেসব নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের অবস্থা গুরুতর নয় কিন্তু হতে পারে সেসব রোগীদের উপেক্ষা করা থেকে বিরত করবে।

তিনি আরো বলেন, এক্ষেত্রে অনেক পরীক্ষা না করারও ঝুঁকি থেকে যায়। বিশেষ করে টোকিও’র মত শহুরে এলাকায় যেখানে সংক্রমিত লোকের সংখ্যা অনেক। তাহলে বোঝা যাচ্ছে কোন রোগীর পরীক্ষা করার সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তা আগের যেকোন সময়ের চেয়ে নির্ভুলভাবে নির্ণয় করা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

এ তথ্যগুলো মে মাসের ১২ তারিখ পর্যন্ত নেয়া।

প্রশ্ন-২৮: বাড়ির বাইরে হাঁটতে বের হওয়া বা জগিং করতে যাওয়া কতটা ঝুঁকিপূর্ণ?

জাপানের সেন্ট লিউকস আন্তর্জাতিক হাসপাতালের একজন সংক্রমণ বিশেষজ্ঞ সাকামোতো ফুমিয়ে নতুন করোনাভাইরাস সম্পর্কে বারবার জিজ্ঞাসা করা প্রশ্নের উত্তর দিবেন।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী আবে শিনযো এক সংবাদ সম্মেলনে যখন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিলেন তখন অপ্রয়োজনে এবং জরুরি নয় এমন ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে জনগনের প্রতি আহবান জানিয়েছিলেন। আবে আরো বলেছেন যে বাইরে হাঁটতে যাওয়া বা জগিং করতে যাওয়াতে কোন সমস্যা নেই, যা আমাদের কাছে শুনতে পরস্পর বিপরীতধর্মী কথা বলে মনে হয়। তবে, সাকামোতো বলেন যে আমাদের জরুরি অবস্থা ঘোষণার মূল লক্ষ্য ভুলে গেলে চলবে না। আর তা হলো অপরের সাথে দূরত্ব বজায় রাখার জন্য জনগণকে উৎসাহিত করা। যদি করো সাথে কথা বলতে বলতে জগিং করা হয় তবে মুখ থেকে জলীয় কণা বের হয়ে পরস্পরের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা এড়িয়ে চলা উচিত। তবে, যেখানে লোকসমাগম নেই সেখানে বাইরে একা জগিং করলে বড় ধরণের ঝুঁকির সম্ভাবনা নেই।  

এ তথ্যগুলো মে মাসের ১২ তারিখ পর্যন্ত নেয়া।

প্রশ্ন-২৭: সুপারমার্কেটে কেনাকাটার সময় আমাদের কেমন সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত?

জাপানের সেন্ট লিউকস আন্তর্জাতিক হাসপাতালের একজন সংক্রমণ বিশেষজ্ঞ সাকামোতো ফুমিয়ে নতুন করোনাভাইরাস সম্পর্কে বারবার জিজ্ঞাসা করা প্রশ্নের উত্তর দিবেন।
সাকামোতো বলেছেন যে সুপারমার্কেটে প্রবেশের পূর্বে আমাদের প্রবেশপথে স্থাপন করা জীবানুনাশক তরল দিয়ে হাতের তালু, আঙ্গুলের নখ এবং কব্জি সহ হাত জীবাণুমুক্ত করতে ভুলে গেলে চলবে না। তিনি আরো বলেন যে যখন ভীড় কম থাকে তখন সেখানে যাওয়াটা বাঞ্ছনীয়।

প্রশ্ন-২৫: গলফ মাঠে আমরা কিভাবে সাবধান থাকব?

জাপানের সেন্ট লিউকস আন্তর্জাতিক হাসপাতালের একজন সংক্রমণ বিশেষজ্ঞ সাকামোতো ফুমিয়ে নতুন করোনাভাইরাস সম্পর্কে বারবার জিজ্ঞাসা করা প্রশ্নের উত্তর দিবেন। সাকামোতো বলেছেন যে, কেউ কেউ হয়তো ভাবছেন যে বহিরাঙ্গন খেলা হওয়ার দরুণ গলফ খেলায় কোন ঝুঁকি নেই। তবে, অনেক লোক একসাথে জমায়েত হলে গলফ খেলায়ও অনেক ঝুঁকি রয়েছে। গলফের মাঠ একটি উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ এবং এটি বদ্ধ জায়গায় খেলা হয় না। তবে, খেলার ভেন্যুর লকার রুম অথবা খাবারের ঘরে অনেক লোক সমাগম হলে তা থেকে উচ্চ ঝুঁকি দেখা দেয়। এছাড়াও অনেক এবং অপরিচিত লোক স্পর্শ করা স্থান হাত দিয়ে ধরার পর সেই হাত দিয়ে মুখ স্পর্শ করার মাধ্যমে সংক্রমণের ঝুঁকির বিষয়েও আমাদের সাবধান হতে হবে।

প্রশ্ন-২৪: যৌথ ভাড়া বাড়িতে থাকার সময় কেউ ভাইরাসে সংক্রমিত হলে তখন পরিস্থিতি কিভাবে সামাল দিতে হবে?

জাপানের সেন্ট লিউকস আন্তর্জাতিক হাসপাতালের একজন সংক্রমণ বিশেষজ্ঞ সাকামোতো ফুমিয়ে নতুন করোনাভাইরাস সম্পর্কে বারবার জিজ্ঞাসা করা প্রশ্নের উত্তর দিবেন। যৌথ ভাড়া বাড়িতে থাকা প্রত্যেক ব্যক্তির আলাদা শোওয়ার ঘর থাকলেও তারা একই রান্নাঘর এবং টয়লেট ব্যবহার করে। সাকামোতো বলেছেন যে এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে কাজটি করা উচিত তা হলো যেসব জিনিস ঘন ঘন ধরা হয় বা ব্যবহার করা হয় তা জীবানুমুক্ত করতে হবে। যেমন- জলের কল বা বৈদ্যুতিক বাল্বের সুইচ তরল ডিটারজেন্ট বা যদি অ্যালকোহল নির্ভর জীবানুনাশক থাকে তা দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।

প্রশ্ন-২২: একবার ব্যবহারের পর ফেলে দিতে হয় এমন মাস্ক এবং পরিস্কার করা যায় ও বারবার ব্যবহার করা যায় এমন কাপড়ের তৈরি মাস্কের কার্যকারিতা সম্পর্কে।

জাপানের সেন্ট লিউকস আন্তর্জাতিক হাসপাতালের একজন সংক্রমণ বিশেষজ্ঞ সাকামোতো ফুমিয়ে নতুন করোনাভাইরাস সম্পর্কে বারবার জিজ্ঞাসা করা প্রশ্নের উত্তর দিবেন। সাকামোতো বলেছেন যে ভাইরাসের বিরুদ্ধে মাস্ক কতটা কার্যকর তা নিয়ে এখনও বিভিন্ন পরীক্ষা চলছে। পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যাচ্ছে যখন কেউ কাশি বা হাঁচি দেয় তখন তা থেকে বেরিয়ে আসা জলীয় কণা রুখতে একটি নির্দিষ্ট পর্যায় পর্যন্ত যেকোন ধরণের মাস্ক কার্যকর। সাকামোতো বলেন তবে এর কার্যকারিতা যে একেবারে নিখুঁত তা নয় এবং অল্প পরিমাণ জলীয় কণা ছড়িয়ে যেতে পারে। তাই, কাশি এবং হাঁচি হলে বাইরে যাওয়া থেকে বিরত থাকা নিরাপদ।

প্রশ্ন-২৩: আমাদের এবারের প্রশ্ন এলিভেটর ব্যবহারের সময় কোন বিষয়গুলো সম্পর্কে লক্ষ্য রাখা উচিত?

জাপানের সেন্ট লিউকস আন্তর্জাতিক হাসপাতালের একজন সংক্রমণ বিশেষজ্ঞ সাকামোতো ফুমিয়ে নতুন করোনাভাইরাস সম্পর্কে বারবার জিজ্ঞাসা করা প্রশ্নের উত্তর দিবেন। সাকামোতো বলেছেন যে যেহেতু আমরা ১০ তলা বা ২০ তলা বিল্ডিং-এ উঠার সময় সিঁড়ি ব্যবহার করতে পারি না। তাই সংক্রমণ প্রতিরোধ করার জন্য আমাদের অনেক লোকের সাথে এলিভেটর ব্যবহার করা এবং এলিভেটরে অন্যদের সাথে কথা বলা পরিহার করা উচিত। এ ধরণের পদক্ষেপ সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনাকে কমিয়ে দেয়। সাকামোতো আরো বলেন যে, যে হাত দিয়ে এলিভেটরের বাটন চাপ দেয়া হয়েছিল সে হাত দিয়ে মুখ স্পর্শ করা উচিত না। বাটন চাপ দেয়ার পর যতটা দ্রুত সম্ভব সাবান এবং পানি দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলা উচিত। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশ্ন-২১: করোনাভাইরাসের পরীক্ষায় পজিটিভ হওয়ার পরও যেসব রোগীদের কোন উপসর্গ দেখা যায় না তাদের সম্পর্কে।

জাপানের সেন্ট লিউকস আন্তর্জাতিক হাসপাতালের একজন সংক্রমণ বিশেষজ্ঞ সাকামোতো ফুমিয়ে নতুন করোনাভাইরাস সম্পর্কে বারবার জিজ্ঞাসা করা প্রশ্নের উত্তর দিবেন। সাকামোতো বলেছেন যে কিছু রোগীর কোন উপসর্গ দেখা দেওয়া ছাড়াই নিজে থেকেই রোগমুক্তি ঘটে। চীনের একদল গবেষকের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে জরিপ চালানো অর্ধেক রোগীদের কোন উপসর্গ দেখা যায়নি বা খুব মৃদু উপসর্গ দেখা গেছে। যাহোক, সাকামোতো বলেছেন যে রোগীদের এক সপ্তাহ পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে কারণ তাদের কেউ কেউ ক্রমান্বয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে যেতে পারেন।

প্রশ্ন-২০: স্যানিটাইজারের পরিবর্তে কি শক্তিশালী অ্যালকোহল ব্যবহার করা যাবে?

করোনাভাইরাস মহামারীর দরুন সরবরাহে স্বল্পতা মেটাতে জাপানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শক্তিশালী অ্যালকোহল পানীয়কে স্যানিটাইজারের পরিবর্তে ব্যবহারের অনুমতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অ্যালকোহল ভিত্তিক স্যানিটাইজার সংগ্রহে চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান এবং কেয়ার হোমগুলো হিমশিম খাওয়ার প্রেক্ষাপটে তাদের আহ্বানে এ সিদ্ধান্ত এলো।

এপ্রিল মাসে মন্ত্রণালয় জানায় এসব প্রতিষ্ঠান যদি যথাযথ স্যানিটাইজার না পায় তবে তারা বেভারেজ কোম্পানিগুলোর উৎপাদিত উচ্চ অ্যালকোহল সমৃদ্ধ পানীয় ব্যবহার করতে পারে। ৭০ থেকে ৮৩ শতাংশ অ্যালকোহল সমৃদ্ধ পানীয় ব্যবহার করা যেতে পারে। এই তালিকায় কিছু ভোদকা নামের অ্যালকোহলও পড়ে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা নির্দেশ করেছেন যে উচ্চ অ্যালকোহল সমৃদ্ধ পানীয় যেগুলো নিম্ন স্যানিটাইজার সম্পন্ন সেগুলো ব্যবহারের সময় মিশিয়ে নেয়া উচিত।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেন যে প্রধানত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্যানিটাইজারের স্বল্পতায় একটি ব্যতিক্রম পদক্ষেপ হতে পারে এটি। তারা সংক্রমণের বিস্তার রোধে জনগণকে বাড়িতে সতর্কতার সাথে হাত ধোয়া অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

এ তথ্যগুলো এপ্রিলের ২৭ তারিখ পর্যন্ত নেয়া।

প্রশ্ন-১৮: “জরুরি অবস্থার ঘোষণা জাপানের জনগণের জীবনে কি প্রভাব ফেলছে?” প্রশ্নের উত্তরের দ্বিতীয় অংশ আমরা এখানে তুলে ধরছি।

ফেসমাস্ক প্রসঙ্গ;

জাপানে ফেসমাস্ক পাওয়া ক্রমেই দুঃসাধ্য হয়ে পড়ছে। করোনাভাইরাস সংক্রান্ত বিশেষ-পদক্ষেপ আইনের ওপর ভিত্তি করে গভর্নর স্থানীয় সরকারের কাছে মাস্ক এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রির অনুরোধ করতে পারেন। যদি এ অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে এ কাজ চালাতে সহযোগিতা না করে তবে গভর্নর এ ধরণের পণ্য বাজেয়াপ্ত করতে পারেন।

বৈশ্বিক তেল সংকটে সাড়া দিয়ে জনগণের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রাখতে জারি করা বিশেষ আইন,১৯৭৩ এর জরুরি পদক্ষেপের ওপর ভিত্তি করে কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যে হোক্কাইদো’র জনগণ এবং চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান গুলোতে মাস্ক কিনে পাঠিয়ে দিয়েছে।

জরুরি অবস্থার ঘোষণা গভর্নরদের কিছু আইনগত বলবৎ পদক্ষেপও নেয়ার অধিকার দিয়েছে। সাময়িক চিকিৎসা স্থাপনা তৈরির জন্য গভর্নর জমি বা ভবনের মালিকের অনুমতি ব্যতিরেকে তা গ্রহণ করতে পারবেন। তারা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানসমূহকে ওষুধ সরবরাহ, খাদ্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য মজুত করতে আদেশ দিতে পারেন। যদি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসমূহ আদেশ না মানে এবং গোপন করে অথবা পণ্য বাতিল করে তবে উদাহরণস্বরূপ তাদের ছয় মাস পর্যন্ত জেল অথবা ৩ লক্ষ ইয়েন বা প্রায় ২,৮০০ ডলার পর্যন্ত জরিমানা দেয়া হতে পারে। শুধুমাত্র এই দু’টো পদক্ষেপের ক্ষেত্রেই জরিমানার বিধান রয়েছে।

জাপানের জরুরি অবস্থার ঘোষণায় কিছু জোরপূর্বক বলবৎ করা যাবে এমন পদক্ষেপ রয়েছে এবং বিদেশে জারি করা লকডাউনের মত এটি নয়। তবে এ ঘোষণা জনগণ এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ভাইরাসের বিস্তার রোধে প্রচেষ্টা চালাতে সহায়তা করার আশা করে।

জরুরি অবস্থা কিভাবে চিকিৎসা সেবাকে প্রভাবিত করছে?

বন্ধের জন্য গভর্নর অনুরোধ জানাতে পারে এমন স্থাপনার আওতায় চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলো অন্তর্ভুক্ত নয়। তাই সেগুলো খোলা রয়েছে। উপরন্তু চিকিৎসা স্থাপনায় যাওয়া আবশ্যকীয় বাইরে যাওয়া হিসেবে বিবেচিত, এমনকি বাড়িতে থাকার অনুরোধের মধ্যেও এটি সীমাবদ্ধ নয়। তবে ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের সর্বোচ্চ সময় স্থানীয় সরকার আক্রান্তদের প্রধানত করোনাভাইরাসের রোগীদের গ্রহণ করে এমন স্থাপনাতে যেতে এবং অন্যান্য রোগীদের ভিন্ন স্থাপনায় যাওয়ার মত পদক্ষেপ নিতে পারবে। জাপানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রয়োজনকে সহজ করতে অনলাইনে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করার সুবিধার পরিকল্পনাও করছে। বর্তমানে ডাক্তারের সাথে একবার সশরীরে সাক্ষাতের পর অনলাইন পরামর্শ করা যাচ্ছে। তবে মন্ত্রণালয় শুরু থেকেই চিকিৎসা অনলাইনে করার অনুমতি দিবে।

নার্সিং সেবা কিভাবে প্রভাবিত হচ্ছে?

জরুরি অবস্থা ঘোষণার মধ্যে জেলার গভর্নররা দিবাযত্ন কেন্দ্র এবং স্বল্প সময় সেবা দেয়া নার্সিং সেবা স্থাপনাগুলোকে বন্ধ করে দিতে এবং কার্যক্রম সীমিত করতে অনুরোধ জানাতে পারবে। যেসব স্থাপনা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে তারা তাদের সেবাপ্রদানকারীকে সুবিধা গ্রহণকারীর বাড়িতে যেয়ে সেবা প্রদানের মত বিকল্প পন্থায় প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান চালিয়ে যেতে বলতে পারবে। গভর্নররা আবাসিক সেবা স্থাপনাসমূহ এবং বাড়িতে সেবা প্রদান বন্ধ করতে বলতে পারবেন না। এসব সেবা প্রদানকারীকে সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে তাদের সেবা চালিয়ে যেতে আহ্বান জানানো হয়েছে।

শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রের ক্ষেত্রে কি হবে?

ভাইরাসের বিস্তার রোধ করতে যদি প্রয়োজন হয় গভর্নর শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রের ব্যবহার সীমিত করতে পারেন, সম্ভব হলে এ ধরণের স্থাপনা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিতে পারেন।

এমনকি গভর্নরের অনুরোধ ছাড়াও মনোনীত এলাকার প্রত্যেক মিউনিসিপালিটি তাদের গ্রহণ করা শিশুদের সংখ্যা হ্রাস করার প্রয়োজনীয়তাও বিবেচনা করতে পারে। অভিভাবকরা যারা বাড়িতে থেকে কাজ করতে পারছেন বা ছুটি নিয়েছেন তাদেরকে দিবাযত্ন কেন্দ্র ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ জানানো হবে।

যদি কোন শিশু বা সেবা প্রদানকারী আক্রান্ত হন অথবা সংশ্লিষ্ট এলাকায় যদি সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায় তবে মিউনিসিপালিটির সাময়িকভাবে স্থাপনাটি বন্ধ করে দেবার সুযোগ রয়েছে। অপরদিকে, মিউনিসিপালিটি চিকিৎসাকর্মী এবং অন্যান্য লোকজন যারা সমাজ সচল রাখতে অপরিহার্য পাশাপাশি একা থাকা অভিভাবক যারা কাজ থেকে ছুটি পাননি তাদের শিশুদের সেবা দেয়ার জন্য অন্য উপায় বিবেচনা করছে।

এরপর শ্রম মান পরিদর্শন দপ্তর এবং চাকরি নির্ণয় কেন্দ্র;

নীতিগতভাবে, চাকরি সম্পর্কিত বিষয়সমূহের সাথে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো স্বাভাবিক সময়ের মত খোলা থাকবে। অপরদিকে প্রত্যেক এলাকার সংক্রমণের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে চাকরি নির্ণয় কেন্দ্রগুলো তাদের কার্যক্রম সীমিত করতে পারে।

গণপরিবহন সেবার ক্ষেত্রে কি হবে?

প্রধানমন্ত্রী আবে শিনযো জরুরি অবস্থা ঘোষণার আগে ৭ই এপ্রিল পরিবহনমন্ত্রী কাযুইয়োশি আকাবা সাংবাদিকদের বলেন যে এমনকি যদি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করাও হয় তারপরেও গণপরিবহন এবং প্রয়োজনীয় সেবাসমূহ সচল রাখা প্রয়োজন হবে।

এ তথ্যগুলো এপ্রিলের ৮ তারিখ পর্যন্ত নেয়া।

জরুরি অবস্থা ঘোষণার মধ্যে জীবন কেমন চলছে তা নিয়ে আমরা পরবর্তীতে আরো প্রশ্নের উত্তর দিব।

প্রশ্ন-১৭: “জরুরি অবস্থার ঘোষণা জাপানের জনগণের জীবনে কি প্রভাব ফেলছে”? প্রশ্নটির উত্তরের প্রথম অংশ নিচে দেয়া হলো।

প্রথমত: বাইরে বের হওয়া;

একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অনাবশ্যক কাজে বের হওয়া থেকে বিরত থাকতে নির্দিষ্ট এলাকার লোকজনকে ঐ এলাকার মনোনীত গভর্নররা আহ্বান জানাতে পারবেন। হাসপাতালে যাওয়া, মুদি দোকানে কেনাকাটা এবং কর্মক্ষেত্রে গমন এর আওতার বাইরে থাকবে। এই অনুরোধ বাধ্যতামূলক নয়, তবে নাগরিকেরা সহযোগিতা করতে এবং সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাতে বাধ্য থাকবে।

এরপর স্কুল প্রসঙ্গ;

গভর্নরেরা স্কুল বন্ধ রাখতে আহ্বান জানাতে বা আদেশ করতে পারবেন। এটি গত মাসে কার্যকর হওয়া বিশেষ আইনের ওপর ভিত্তি করে। গভর্নরদের জেলার হাইস্কুলগুলো বন্ধ রাখার কর্তৃত্ব রয়েছে। তারা মিউনিসিপালিটির এক্তিয়ারভুক্ত বেসরকারি স্কুল এবং প্রাথমিক ও জুনিয়র হাইস্কুলগুলো বন্ধ রাখার জন্য বলতে পারবেন। স্কুলগুলো না মানলে তারা তা করতে আদেশ দিতে পারবেন তবে এর জন্য কোন শাস্তি হবে না।

বিভিন্ন স্থাপনা এবং দোকানের ক্ষেত্রে;

আইনটি ভাইরাসের বিস্তার রোধ করতে স্থাপনাসমূহের ব্যবহার কমাতে গভর্নরদের অনুরোধ জানানোর অধিকার দিয়েছে। তারা ১,০০০ বর্গমিটার বা তার চেয়ে বেশি আয়তনের যেসব বড় স্থাপনা রয়েছে তাদের কার্যক্রম সীমিত বা বন্ধ করতেও বলতে পারবেন। এর থেকে ছোট আয়তনের স্থাপনার ক্ষেত্রেও প্রয়োজন হলে একই ধরণের আদেশ দিতে পারবেন। এর আওতায় আসা স্থাপনাগুলোর তালিকায় রয়েছে: থিয়েটার এবং সিনেমা হল, বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের ভেন্যু, ডিপার্টমেন্ট স্টোর, সুপারমার্কেট, হোটেল ও সরাইখানা, জিম ও সুইমিং পুল, জাদুঘর, লাইব্রেরি, নৈশক্লাব, ড্রাইভিং স্কুল এবং কোচিং সেন্টার।

সুপারমার্কেটগুলো খাবার, ওষুধ এবং স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট পণ্যের মত নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের শাখাগুলোর কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য অনুমোদিত। যখন কিছু স্থাপনা এই অনুরোধ মানবে না গভর্নররা তা করার আদেশ দিতে পারবেন।

তারা এ আদেশ দেয়া স্থাপনা সমূহের নাম প্রকাশ করতে পারবেন।

বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং মেলা প্রসঙ্গে;

নতুন আইনের আওতায়, গভর্নররা অনুষ্ঠানের আয়োজকদের অনুষ্ঠান না আয়োজন করার জন্য বলতে পারবেন। যদি কোন আয়োজক তা না মানেন তবে তারা আদেশ দিয়ে তা বন্ধ করতে পারবেন। গভর্নররা আদেশ দেয়া আয়োজকদের নাম জেলার ওয়েবসাইট অথবা অন্য গণমাধ্যমে প্রকাশ করতে পারবেন।

এবং প্রয়োজনীয় ইউটিলিটি বা সেবা সম্বন্ধীয়;

প্রয়োজনীয় ইউটিলিটির ক্ষেত্রে জরুরি অবস্থার ঘোষণা কোন প্রভাব ফেলবে না। বিদ্যুৎ, গ্যাস এবং পানির সেবাদাতাদের সার্বক্ষণিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে পদক্ষেপের বাস্তবায়ন করতে আহ্বান জানানো হয়েছে।

পরিবহন, টেলিফোন, ইন্টারনেট এবং ডাক সেবা পরিচালনাকারীদের কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। আইনটি গণপরিবহনের চলাচল সীমিত রাখতে বলতে পারবে না। প্রধানমন্ত্রী এবং গভর্নররা ন্যুনতম প্রয়োজন মেটাতে পরিবহন ব্যবস্থা সচল রাখতে পদক্ষেপ নিতে পারবে।

এ তথ্যগুলো এপ্রিলের ৭ তারিখ পর্যন্ত নেয়া।

জরুরি অবস্থা ঘোষণার মধ্যে জীবন কেমন চলছে তা নিয়ে আমরা পরবর্তীতে আরো প্রশ্নের উত্তর দিব।

প্রশ্ন-১৬: "ফ্লু প্রতিরোধী ওষুধ এভিগান কতটা কার্যকরী?"

ছয় বছর আগে জাপানের একটি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রতিরোধী ওষুধ এভিগানের উন্নয়ন ঘটায় যা ফাভিপিরাভির নামেও পরিচিত। ল্যাবরেটরিতে প্রানীর ওপর চালানো পরীক্ষায় ওষুধটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যাওয়ায় জাপান সরকার গর্ভবতী নারীসহ কিছু লোকের ক্ষেত্রে এর ব্যবহার অনুমোদন করেনি। এভিগান এখন শুধুমাত্র সরকার অনুমোদিত কিছু নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হবে।

এখন পর্যন্ত নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসায় কার্যকরীভাবে অন্য কোন ওষুধ কাজ করেনি তবে নতুন করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে এভিগান কার্যকরী হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের মতই সংখ্যা বৃদ্ধি করে। পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় এই ওষুধের প্রভাব নিয়ে গবেষণা চালানো হচ্ছে।

চীন সরকার দুটি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে চালানো ক্লিনিক্যাল গবেষণার ফলাফল ঘোষণা করেছে। এর একটিতে গুয়াংডং প্রদেশের শেনঝেন শহরের ৮০ ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত ছিল। যাদের এভিগান দেয়া হয়নি তাদের ভাইরাসের উপস্থিতি পরীক্ষায় ইতিবাচক থেকে নেতিবাচক হতে মধ্যবর্তী সময় ছিল ১১ দিন। অপরদিকে যাদের এ ওষুধ দেয়া হয়েছে তাদের মধ্যবর্তী সময় ছিল ৪ দিন। এক্স-রে করার পর দেখা যায় যেসব রোগীদের এভিগান দেয়া হয়নি তাদের ফুসফুসের অবস্থার ৬২ শতাংশ উন্নতি ঘটেছিল, অপরদিকে যাদের এভিগান দেয়া হয় তাদের ৯১ শতাংশের উন্নতি হয়।

চীন সরকার ঘোষণা করে যে নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় একটি ওষুধ হিসেবে এভিগানকে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে এই ফলাফল উৎসাহিত করছে।

জাপানে মার্চ মাস থেকে আইচি জেলার ফুজিতা স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের মত প্রতিষ্ঠানগুলোতে মৃদু উপসর্গ দেখা দেয়া বা উপসর্গবিহীন আক্রান্ত ৮০ রোগীকে অন্তর্ভুক্ত করে ক্লিনিক্যাল গবেষণা চালানো হচ্ছে। গবেষকরা ভাইরাসের পরিমাণ কমাতে কতটা ওষুধ লাগবে তা তুলনা করে দেখছেন।

এভিগানের প্রস্তুতকারক জাপানের কোম্পানিটি ঘোষণা করেছে যে সরকারের অনুমোদন পেতে তারা ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা শুরু করেছে। ওষুধটির কার্যকারীতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে কোম্পানিটি সরকারের কাছে অনুমোদনের আবেদন করার পরিকল্পনা করছে।

এ তথ্যগুলো এপ্রিলের ৬ তারিখ পর্যন্ত নেয়া।

প্রশ্ন-১৫: চীনের উহান শহর, ইতালি এবং ইউরোপের অন্যান্য দেশে কি করোনাভাইরাস পরিবর্তিত হচ্ছে?

মার্চ মাসের শুরুতে চীনের একটি গবেষক দল সারা বিশ্বের প্রায় ১০০’রও বেশি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী থেকে নেয়া করোনাভাইরাসের জিন পরীক্ষা করে দেখেছেন। জিনের বৈশিষ্ট্যসূচক পার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে দলটি এল-টাইপ এবং এস-টাইপ এই দু’ধরণের জিন পায়।

দলটি দেখতে পায় যে বাঁদুড়ের দেহ থেকে পাওয়া করোনাভাইরাসের জিনের সাথে এস-টাইপের যথেষ্ট মিল রয়েছে। এল-টাইপ ভাইরাস ব্যাপকভাবে পাওয়া গেছে ইউরোপীয় দেশগুলোর রোগীদের মধ্যে এবং ধারণা করা হচ্ছে যে তুলনামূলকভাবে এটি এস-টাইপ থেকে নতুন ধরণের।

ভাইরাসের বৈশিষ্ট্যসমূহ নিয়ে গবেষণা করা রিৎসুমেইকান বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ইতো মাসাহিরো জানান করোনাভাইরাস সহজে পরিবর্তিত হতে পারে এবং ধারণা করা হচ্ছে যে অনেক মানুষকে সংক্রমিত করার মধ্য দিয়ে এটি পরিবর্তিত হচ্ছে এবং ভাইরাসের বিস্তারের পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছে।

এদিকে, আরো সহজে বিস্তারের জন্য ভাইরাসটির পরিবর্তনের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে ইতো বলেন ভাইরাসটি এখনো এমন পর্যায়ে রয়েছে যেখানে বিবেচনায় নেওয়ার মতো জিনের পরিবর্তন ঘটায়নি। তিনি বলেন এমনকি যদিও এল-টাইপ এবং এস-টাইপ জিনের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে তথাপি কোন ধরণটি বেশি মারাত্মক অবস্থার সৃষ্টি করে সে বিষয়ে এখনো তথ্যের ঘাটতি রয়েছে। ইতো বলেন যদিও দেশভেদে রোগের প্রবলতা এবং মৃত্যুর হার ভিন্ন তারপরেও ধারণা করা হচ্ছে যে যেকোন দেশের বয়স্ক জনগোষ্ঠীর অনুপাত, সংস্কৃতি এবং খাদ্যাভাসসহ জনগণ নিজেরাই এই ভিন্নতার সৃষ্টি করছে।

এ তথ্যগুলো এপ্রিলের ৩ তারিখ পর্যন্ত নেয়া।

প্রশ্ন-১৪: করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হবার পর তরুণরা কি গুরুতর অসুস্থ হয়?

বিশেষজ্ঞরা সাধারণত বলেন যে বয়স্ক ব্যক্তিরা এবং যারা আগে থেকেই কোন রোগে আক্রান্ত তারা আক্রান্ত হলে তাদের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হয়। তবে গতমাসে সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা যায় ব্রিটেনে একজন ২১ বছর বয়সী তরুণী এবং ফ্রান্সের ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরী আক্রান্ত হবার পর মারা যান, যাদের দু’জনেরই পূর্বে কোন গুরুতর শারীরিক অসুস্থতা ছিল না। সাম্প্রতিক সংক্রমণের ঘটনাগুলো থেকে দেখা যায় যে কিছু কম বয়সীরাও মারাত্মক অসুস্থ হতে পারেন।

জাপানেও তুলনামূলকভাবে তরুণ বয়সীদের গুরুতর অসুস্থ হতে দেখা গেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য এবং চিকিৎসার জাতীয় কেন্দ্রের সাতোশি কুৎসুনা জানান তিনি চিকিৎসা প্রদান করা ৩০ জনেরও বেশি রোগীর মধ্যে ৪০ এর কোঠার প্রথমার্ধে বয়সী একজনের পূর্বে কোন রোগ না থাকলেও গুরুতর লক্ষণ দেখা যায়।

কুৎসুনা বলেন ঐ ব্যক্তির প্রথম কয়েকদিন শুধুমাত্র জ্বর এবং কাশি থাকলেও এক সপ্তাহ পর তার মারাত্মক নিউমোনিয়া দেখা যায় এবং দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস অবস্থার অবনতি হওয়ার কারণে রেসপিরেটরের প্রয়োজন হয়। তিনি জানান ঐ ব্যক্তি পরে আরোগ্য লাভ করেন।

কুৎসুনা বলেন যে তরুণদের এটা ভাবা উচিৎ নয় যে তারা সুস্থ থাকবেন কারণ তারাও মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হতে পারেন।

৫০ এর নীচের বয়সী অনেককে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করে দিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিরোধ কেন্দ্রের প্রতিবেদনে জানা যায় ২০ থেকে ৪৪ বছর বয়সী আক্রান্তদের দুই থেকে চার শতাংশ নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রয়েছে।

এ তথ্যগুলো এপ্রিলের ২ তারিখ পর্যন্ত নেয়া।

প্রশ্ন-১৩: ২০০৩ সালের সার্স রোগের প্রাদুর্ভাবের সময় শোনা গিয়েছিল যে একটি ড্রেনের পাইপের ছিদ্র দিয়ে বের হয়ে আসা বর্জ্যপানির মাধ্যমে ভাইরাস ছড়ানোর ঘটনা ঘটেছিল। সার্স করোনাভাইরাসের সঙ্গে নতুন প্রজাতির এই করোনাভাইরাসের মিল থাকার কথা বলা হচ্ছে। তাহলে সেরকম কোন ঘটনা কি নতুন করোনাভাইরাসের মাধ্যমেও ঘটতে পারে?

নতুন এই ভাইরাস এবং সার্স ভাইরাস একই করোনাভাইরাস পরিবারভুক্ত। সার্স সৃষ্টিকারী করোনাভাইরাস শুধুমাত্র গলা ও ফুসফুসেই নয় বরং ইন্টেস্টাইনেও এর সংখ্যা বৃদ্ধি করে বলে জানা গেছে। ২০০৩ সালে বিশ্বের বিভিন্ন অংশে যখন সার্স ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছিল তখন হংকং-এর এক কন্ডোমিনিয়ামে গণসংক্রমণের খবর পাওয়া যায়। সন্দেহ করা হয় যে পুরাতন ড্রেনপাইপের ছিদ্র থেকে ভাইরাস থাকা জলীয় অংশ বেরিয়ে আসার কারণে সেই গণসংক্রমণের ঘটনা ঘটেছিল।

তোহোকু মেডিকেল ও ফার্মাসিউটিকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কাকু মিৎসুও, যিনি সংক্রমণ প্রতিরোধী পদক্ষেপের একজন বিশেষজ্ঞ, উল্লেখ করেন যে তুলনামূলকভাবে উচ্চ মাত্রার স্বাস্থ্যসম্মত অবস্থা থাকা দেশগুলোতে ড্রেনের পাইপের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকি কম। তবে তিনি বলেন, ভাইরাসের পক্ষে টয়লেটের উপরিতল ও আশেপাশের স্থানে লেগে থাকা সম্ভব এবং আপনি ভাইরাস লেগে থাকা স্থানে হাত দিয়ে স্পর্শ করার মাধ্যমে সংক্রমিত হতে পারেন। তিনি বলেন, লোকজনের উচিত হবে ফ্লাশ করার আগে টয়লেটের ঢাকনা বন্ধ করে নেয়া এবং টয়লেট ব্যবহার করার পরে হাত খুব ভালো করে ধুয়ে নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, লোকজনকে পানির কল, বেসিন এবং দরজার নব ভালো করে জীবাণুমুক্ত করে নেয়ার মত বিভিন্ন দৈনন্দিন জীবনের স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রাখতে অবশ্যই কাজ করতে হবে।

এ তথ্যগুলো এপ্রিলের ১ তারিখ পর্যন্ত নেয়া।

প্রশ্ন-১১: সাবান দিয়ে জীবাণুনাশ করলে কি সেটা অ্যালকোহল ব্যবহারের মতই কার্যকর হবে?

টোকিও’র সেন্ট লুক’স আন্তর্জাতিক হাসপাতালের সাকামোতো ফুমিএ একজন সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, একটি নির্দিষ্ট পর্যায় পর্যন্ত সাবান কার্যকরী।

সাকামোতো বলেন, সাবানে সাধারণত সার্ফেক্টেন্ট থাকে যা করোনাভাইরাসের উপরিভাগে থাকা লিপিড স্তরকে ধ্বংস করতে পারে। তিনি বলেন, এর অর্থ হল একটা নির্দিষ্ট পর্যায় পর্যন্ত ভাইরাসকে ধ্বংস করা যায়।

সাকামোতো বলেন, অ্যালকোহলও কার্যকর, তবে আপনার হাত যদি নোংরা থাকে সেক্ষেত্রে অনেক সময় জীবাণুনাশকের জন্য সংক্রামকের ভেতরে যাওয়া কঠিন হয়ে পরে।

সাকামোতো লোকজনকে নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার জন্য আহ্বান জানান।

প্রশ্ন-১০: কোন অবস্থায় আমরা বলতে পারি যে সংক্রমণের সমাপ্তি ঘটেছে?

শিগেরু ওমি হলেন নতুন করোনাভাইরাস সংক্রান্ত সরকারি বিশেষজ্ঞ প্যানেলের ভাইস চেয়ার এবং জাপান কমিউনিটি স্বাস্থ্য সেবা সংস্থার প্রেসিডেন্ট। তিনি এর আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় নেয়া পদক্ষেপের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, সংক্রমণের সমাপ্তি ঘটার অর্থ হচ্ছে সংক্রমণ শৃংখল থেমে গেছে এবং আর কোন সংক্রমিত ব্যক্তি নেই।

স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সমাপ্তির ঘোষণা দিতে পারে যদি ডব্লিউএইচও’র নির্ধারিত মানের ভিত্তিতে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কোন নতুন সংক্রমণ ঘটেনি বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।

উদাহরণস্বরূপ, ২০০৩ সালে সার্স প্রধানত চীন ও এশিয়ার অন্যান্য অংশে বিস্তার লাভ করেছিল। ডব্লিউএইচও প্রথম সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়ার আট মাস পরে এর সমাপ্তি ঘোষণা করেছিল।

অপরদিকে, লোকজনকে বাইরে বের হতে নিষেধ করার মত বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ার মাধ্যমে কোন সুনির্দিষ্ট এলাকা বা দেশে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সংক্রমণের বিস্তার হয়তো নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা যায়।

তবে, সেই এলাকার বাইরে থেকে ভাইরাস এসে আবারও সেখানে সংক্রমণের বিস্তার ঘটার সম্ভাবনা থাকে। যেমন- মৌসুমী ইনফ্লুয়েঞ্জা শীতকালে বিস্তার লাভ করে এবং সাময়িকভাবে কমে যায় কিন্তু এখন পর্যন্ত এর সমাপ্তি ঘটেনি।

সংক্রমণের বিস্তার ও জটিল আকারে রুপ নেয়া ঠেকাতে টিকা এবং ওষুধ কার্যকর ভূমিকা রাখে। তবে ওমি বলেন, টিকা ও ওষুধের সজলভ্যতা এবং সংক্রমণের সমাপ্তি ঘটবে কিনা – এ দুটো ভিন্ন বিষয়।

ওমি বলেন, স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সংক্রমণের পরিপূর্ণ সমাপ্তিকে লক্ষ্য ধরে সংক্রমণ রোধ করার প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিতে সচেষ্ট থাকবে।

এ তথ্যগুলো মার্চের ২৭ তারিখ পর্যন্ত নেয়া।

প্রশ্ন-৮: আমাদের এবারের প্রশ্ন এসেছে ইন্দোনেশিয়ার শ্রোতা নুরদিয়ান শিয়াহ’র কাছ থেকে। তিনি প্রশ্ন করেছেন জাপান কি করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় কোন কার্যকরী ওষুধ বের করতে পেরেছে?

দু:খজনক হলেও সত্যি যে ইনফ্লুয়েঞ্জা চিকিৎসায় যেমন তামিফ্লু এবং জোফ্লুযা ব্যবহার করা হয় তেমন করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকরী কোন ওষুধ এখনো বের করা সম্ভব হয়নি। অন্যান্য দেশের মতো, জাপানের চিকিৎসকরাও লক্ষণের ওপর নজর রেখে চিকিৎসা চালাচ্ছেন। যেমন রোগীকে অক্সিজেন সাপোর্টে রাখা এবং পানিশূন্যতার জন্য শরীরে স্যালাইন দেয়া।

যদিও ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকরী কোন ওষুধ এখনো আবিষ্কৃত হয়নি, তবে জাপান এবং বিশ্বজুড়ে ডাক্তারেরা এর চিকিৎসায় কাজ করতে পারে ভেবে বিদ্যমান ওষুধগুলো ব্যবহার করছেন।

এর একটি হচ্ছে ছয় বছর আগে জাপানের একটি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির উদ্ভাবিত ফ্লু প্রতিরোধী ওষুধ এভিগান। চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে করোনাভাইরাসের রোগীদের চিকিৎসায় এটি কার্যকর হয়েছে।

জাপানের বৈশ্বিক স্বাস্থ্য এবং চিকিৎসার জাতীয় কেন্দ্র জানিয়েছে তারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এক রোগীর ক্ষেত্রে এইডস রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত একটি এন্টিভাইরাল ওষুধ ব্যবহার করেছে। কেন্দ্রটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন রোগীর জ্বর নেমে গিয়েছিল এবং ক্লান্তিবোধ ও শ্বাসকষ্টের উন্নতি হয়েছিল।

বিভিন্ন দেশে এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকরী চিকিৎসা বের করার চেষ্টা চলছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিরোধ কেন্দ্রের গবেষকরাসহ গবেষকদের একটি দল করোনাভাইরাসের কারণে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়া এক ব্যক্তির ওপর ইবোলা চিকিৎসায় ব্যবহৃত একটি এন্টিভাইরাল ওষুধ প্রয়োগ করার কথা জানিয়েছেন। গবেষকরা বলেছেন ওষুধটি প্রয়োগ করার পর ঐ ব্যক্তির দেখা দেওয়া লক্ষণসমূহের উন্নতি হতে থাকে। তারা জানান তাকে আর অক্সিজেন দেবার প্রয়োজন হয়নি এবং তার জ্বর নেমে গিয়েছিল।

থাইল্যান্ডের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে ফ্লু এবং এইডস্‌ রোগে ব্যবহৃত ওষুধ একত্রে ব্যবহারের ফলে এক রোগীর অবস্থার উন্নতি হয়েছিল এবং পরে তিনি করোনাভাইরাস মুক্ত হন।

তবে প্রতিক্ষেত্রেই বিশেষজ্ঞরা বলেছেন ওষুধগুলোর নিরাপত্তা এবং কার্যকারিতা পরীক্ষায় পুনরায় ক্লিনিক্যাল গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

এ তথ্যগুলো মার্চের ২৫ তারিখ পর্যন্ত নেয়া।

প্রশ্ন-৭: করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে শিশুদের মধ্যে কি মারাত্মক লক্ষণ দেখা দেয়?

নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সময় শিশুদের মধ্যে মারাত্মক লক্ষণ দেখা দিয়েছিল এমন কোন তথ্য চীন থেকে পাওয়া যায়নি।

চীনের রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিরোধ কেন্দ্রের একটি গবেষক দল বিশ্লেষণ করেছেন যে ফেব্রুয়ারির ১১ তারিখ পর্যন্ত দেশটিতে আক্রান্ত ৪৪,৬৭২ জনের মধ্যে নয় বছর বা তার চেয়ে কম বয়সী কোন শিশু সংক্রমণে মারা যায়নি। রোগীদের মধ্যে কিশোর বয়সী মাত্র একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

উহান বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের একদল গবেষক জানিয়েছেন চীনের মূল ভূখন্ডে ফেব্রুয়ারির ৬ তারিখের মধ্যে এক মাস থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের মধ্যে করোনাভাইরাসের পরীক্ষায় ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া গেছে। তাদের কেউই গুরুতর অসুস্থ হয়নি।

শিশুদের সংক্রামক ব্যাধির একজন বিশেষজ্ঞ হলেন আইচি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ৎসুনেও মোরিশিমা। মোরিশিমা জানান কিছু ক্ষেত্রে করোনাভাইরাসের বজায় থাকা প্রজাতির সাথে নতুন ভাইরাসের মিল রয়েছে, যারা প্রায়ই সাধারণ সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত হন তাদের এর প্রতিরোধক ক্ষমতা থাকতে পারে।

অধ্যাপক আরও জানান যে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে কারণ সংক্রমণ দ্রুত স্কুল এবং শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তিনি বলেন শিশুরা যাতে নিয়মিত তাদের হাত পরিস্কার করে এবং তাদের থাকার কক্ষে যাতে যথেষ্ট বায়ু চলাচল করে তা অভিভাবকদের নিশ্চিত করতে হবে।

এ তথ্যগুলো মার্চের ২৪ তারিখ পর্যন্ত নেয়া।

প্রশ্ন-৬: করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হবার পর কাদের মধ্যে গুরুতর লক্ষণ দেখা দেয়?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে যে যাদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগসহ এমন রোগ রয়েছে যা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেয় তাদের অনেকের ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

এটা নিশ্চিত যে যাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল তাদের শুধুমাত্র নতুন করোনাভাইরাস নয় বরং মৌসুমী ইনফ্লুয়েঞ্জার মত সাধারণ সংক্রমণের থেকেও সাবধান হতে হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যাদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগ রয়েছে, যারা বাতসহ অন্যান্য রোগের জন্য রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস করার ওষুধ গ্রহণ করছেন এবং বয়স্কদের এর অন্তর্ভুক্ত করেছে।

দীর্ঘদিন ধরে রোগে ভোগা রোগীদের সাথে তাদের লক্ষণের প্রকাশ কতটা মারাত্মকভাবে সম্পর্কিত গবেষকরা তা খুঁজে বের করেননি।

গর্ভবতী নারীরা করোনা ভাইরাসের উচ্চ ঝুঁকির তালিকায় রয়েছেন এমন কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে সাধারণভাবে বলা যায় তারা ভাইরাসে সংবেদনশীল এবং যদি তাদের নিউমোনিয়া দেখা দেয় তবে তা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।

ছোট শিশুদের ক্ষেত্রেও করোনাভাইরাসে কি ধরণের লক্ষণ দেখা দেয় তা সংক্রান্ত কোন তথ্য নেই। তবে বলা হচ্ছে যে তারা নিজেরা হাত ধোয়া বা ভীড় এড়িয়ে চলার মতো প্রতিরোধক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে না বিধায় তাদের অভিভাবকদের প্রতি শিশুদের রক্ষা করতে যা করা সম্ভব তা করার আহবান জানানো হচ্ছে।

প্রশ্ন-৫: একজন ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর কি কি লক্ষণ দেখা দেয়?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞসহ বিশেষজ্ঞদের একটি যৌথ দল এ সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। দলটি ফেব্রুয়ারির ২০ তারিখ পর্যন্ত চীনে নিশ্চিতভাবে আক্রান্ত ৫৫,৯২৪ ব্যক্তির লক্ষণ বিস্তারিত বিশ্লেষণ করেন।

রিপোর্টে বলা হয়েছে ৮৭.৯ শতাংশ রোগীর জ্বর ছিল, ৬৭.৭ শতাংশের কাশি দেখা গিয়েছিল, ৩৮.১ শতাংশ ক্লান্তিবোধের অভিযোগ করেছিলেন এবং ৩৩.৪ শতাংশের কফ ছিল। অন্যান্য লক্ষণের মধ্যে ছিল শ্বাসকষ্ট, গলা ব্যাথা এবং মাথা ব্যাথা। আক্রান্তদের মধ্যে গড়ে ৫ থেকে ৬ দিনের মধ্যে এসব লক্ষণ প্রকাশ পায়।

আক্রান্তদের প্রায় ৮০ শতাংশের মধ্যে তুলনামূলকভাবে মৃদু লক্ষণ দেখা গিয়েছিল। কিছু লোকের নিউমোনিয়া হয়নি। আক্রান্তদের মধ্যে ১৩.৮ শতাংশ গুরুতর অসুস্থ হন এবং শ্বাসকষ্টে ভুগেন।

৬০ বছর বা ততোর্ধ ব্যক্তি এবং যাদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, দীর্ঘদিন যাবৎ শ্বাসকষ্টে ভুগছেন এবং যাদের ক্যান্সার রয়েছে তাদের মারাত্মক অথবা প্রাণনাশক লক্ষণ দেখা যায়। শিশুদের আক্রান্ত হবার বা গুরুতর অসুস্থ হবার তেমন কোন খবর পাওয়া যায়নি। আক্রান্তদের মধ্যে মাত্র ২.৪ শতাংশ ১৮ বছর বা তার চেয়ে কম বয়সী।

বিশ্ব স্বাস্থ্য এবং চিকিৎসার জাতীয় কেন্দ্রের ডাক্তার সাতোশি কুৎসুনা জাপানে ভাইরাসের পরীক্ষায় ইতিবাচক ফল পাওয়া রোগীদের চিকিৎসা করছেন। কাৎসুনা বলেন তিনি দেখেছেন রোগীদের সর্দি, গলা ব্যাথা এবং কাশি ছিল। তাদের সবার ক্লান্তিবোধ এবং প্রায় এক সপ্তাহ পর্যন্ত ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি জ্বর ছিল।

ডাক্তার জানান কিছু লোকের ক্ষেত্রে এক সপ্তাহ পর উচ্চ তাপমাত্রা দেখা গিয়েছিল। তিনি বলেন এ লক্ষণগুলো মৌসুমি ফ্লু বা অন্যান্য ভাইরাসে সৃষ্ট রোগের চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী ছিল।

এ তথ্যগুলো মার্চের ১৯ তারিখ পর্যন্ত নেয়া।

প্রশ্ন-৪: আমরা কিভাবে আমাদের জামাকাপড় সংক্রমণমুক্ত করতে পারি? আমরা জানবো যে কাপড় ধোয়া হলে সেটা থেকে ভাইরাস দূর হয়ে যাবে নাকি কাপড় ধোয়ার সময় অ্যালকোহলের জীবাণুনাশক ব্যবহার করা উচিৎ হবে।

সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক জাপানি সোসাইটির এরিসা সুগাওয়ারা বলছেন কাপড়ে অ্যালকোহলের জীবাণুনাশক ব্যবহারের কোন প্রয়োজন নেই। তিনি এর ব্যাখ্যা করে বলেন যে স্বাভাবিক কাপড় ধোয়ার পদ্ধতিতেই বেশিরভাগ ভাইরাস কাপড় থেকে দূর হয়ে যায়। যদিও নতুন করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে একথা এখনও প্রমাণিত হয়নি।

কাশি বা হাঁচি দেয়ার সময় মুখ ঢাকার জন্য ব্যবহৃত রুমালের মত যেসব কাপড়ের মধ্যে এই ভাইরাসটি থাকতে পারার সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে হবে সেগুলো ১৫ থেকে ২০ মিনিট ফুটন্ত পানিতে ভিজিয়ে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন সুগাওয়ারা।

প্রশ্ন-৩: "গর্ভবতী নারীদের কোন কোন বিষয়ে সর্তক থাকা উচিৎ?"

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের প্রাক্কালে ধাত্রীবিদ্যা ও স্ত্রীরোগ বিজ্ঞানে সংক্রামক ব্যাধি বিষয়ক জাপান সোসাইটি গর্ভবতী মা এবং গর্ভধারণে ইচ্ছুক নারীদের জন্য পরামর্শ সম্বলিত দলিল প্রকাশ করেছে।

সোসাইটি বলছে এখন পর্যন্ত এমন কোন তথ্য পাওয়া যায়নি যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে গর্ভবতী নারীদের মধ্যে জটিল লক্ষণ দেখা দেয়ার সম্ভাবনা বেশি কিংবা এই ভাইরাস ভুমিষ্ট না হওয়া শিশুর ক্ষেত্রে কোন সমস্যার সৃষ্টি করেছে।

তবে সোসাইটি সতর্ক করছে যে, সাধারণভাবে এই ভাইরাসের কারণে গর্ভবতী নারীদের নিউমোনিয়া হলে তারা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পরতে পারেন।

সোসাইটি গর্ভবতী নারীদের বিশেষ করে বাইরে যাওয়ার পর এবং খাবার গ্রহণের আগে সাবান এবং বহমান পানি দিয়ে হাত পুরোপুরি ধুয়ে নিতে এবং অ্যালকোহল ভিত্তিক জীবাণুনাশক ব্যবহারের মত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছে।

অন্য যেসব সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পরামর্শ দেয়া হয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বর ও কাশি থাকা ব্যক্তিদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা, নিরাপত্তামূলক মাস্ক পরিধান করা এবং নিজের হাত দিয়ে নাক ও মুখ স্পর্শ না করা। নিহন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক সাতোশি হায়াকাওয়া এই দলিলটি প্রণয়ন করেছেন। তিনি বলছেন, গর্ভবতী নারীরা যে উদ্বেগ অনুভব করছেন তা তিনি বুঝতে পারছেন। তবে তিনি তাদেরকে বিশ্বাসযোগ্য ও নির্ভুল তথ্যের উপর ভিত্তি করে পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন কারণ সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাবের সময় সব ধরনের ভুল তথ্য ছড়িয়ে পরে।

প্রশ্ন-২: "আমরা কিভাবে সংক্রমিত হই এবং আমরা কিভাবে সংক্রমিত হওয়া প্রতিরোধ করতে পারি?"

বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন নতুন করোনাভাইরাস মৌসুমী ফ্লু বা সাধারণ সর্দিজ্বরের মতই সর্দি বা কাশির জলীয় অংশ অথবা ভাইরাস লেগে থাকা কোন স্থান স্পর্শ করার মাধ্যমে ছড়িয়ে থাকে। এর মানে হল সংক্রমিত ব্যক্তি যখন কাশি বা হাঁচি দেয় তখন যে জলীয় অংশ নির্গত হয় তার মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়ায়। একজন ব্যক্তি এই ভাইরাস লেগে থাকা দরজার হাতল বা ট্রেনের হাতল ধরার পর সেই হাত দিয়ে যদি তার নাক কিংবা মুখ স্পর্শ করে তাহলেও সে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হতে পারে। ধারণা করা হয় করোনাভাইরাস মৌসুমী ফ্লু’র মত একই মাত্রার সংক্রামক।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধের মূল পদক্ষেপগুলো মৌসুমী ফ্লু মোকাবিলায় নেয়া পদক্ষেপগুলোর অনুরূপ। যেমন– হাত ধোয়া এবং কাশি দেয়ার শিষ্টাচার।

যখন কেউ হাত ধুবে, তখন তাকে সাবান ব্যবহার করতে হবে এবং কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড ধরে বহমান পানি দিয়ে হাতের কব্জি পর্যন্ত প্রতিটি অংশ খুব ভালো করে ধুতে হবে। অথবা কেউ অ্যালকোহল ভিত্তিক স্যানিটাইজারও ব্যবহার করতে পারে। এই ভাইরাসের সংক্রমণের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হল কাশি দেয়ার সময় শিষ্টাচার অনুসরণ করা। যখন কেউ কাশি দিবে তখন সে টিস্যু কাগজ বা জামার হাতা দিয়ে নাক ও মুখ ঢেকে রাখবে যাতে করে ভাইরাস থাকা জলীয় অংশ অন্য কারও উপর ছড়িয়ে না পরে। অন্যান্য কার্যকর পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে জনবহুল এলাকা এড়িয়ে চলা এবং বাসায় থাকার সময় বাতাস চলাচলের জন্য জানালাগুলো খুলে রাখা।

জাপানে প্রত্যেক রেল কোম্পানিকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে তারা ট্রেনের যাত্রী ভর্তি কারের জানালাগুলো খোলা রাখবে কিনা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রেনের কারগুলো যাত্রীদের উঠানামার জন্য যখন বিভিন্ন স্টেশনে থামে তখন এর দরজাগুলো খুলে যাওয়ার ফলে সেখানে একটি নির্দিষ্ট মাত্রার বাতাস চলাচলের সৃষ্টি হয়।

প্রশ্ন-১: "করোনাভাইরাস কি?"

করোনাভাইরাস হচ্ছে একধরনের ভাইরাস যা মানুষ ও অন্য প্রাণীকে সংক্রমিত করে। সাধারণত, এটি মানুষের মধ্যে বিস্তার লাভ করে এবং এর ফলে সাধারণ সর্দিজ্বরের মত লক্ষণ যেমন কাশি, জ্বর ও সর্দি দেখা দেয়। ২০১২ সালে সৌদি আরবে প্রথম নিশ্চিত হওয়া মিডল ইস্ট রেসপিরেটরি সিনড্রোম বা মার্স সৃষ্টিকারী ভাইরাসটির মত করোনাভাইরাস নিউমোনিয়া কিংবা অন্য জটিল লক্ষণের সৃষ্টি করতে পারে।

বিশ্বজুড়ে মহামারী সৃষ্টিকারী করোনাভাইরাসটি হচ্ছে এর একটি নতুন প্রজাতি। এই ভাইরাসে সংক্রমিত ব্যক্তির মধ্যে জ্বর, ক্লান্তিবোধ, কফ, শ্বাসকষ্ট, গলা ব্যাথা এবং মাথা ব্যাথার মত বিভিন্ন লক্ষণ দেখা দেয়। প্রায় ৮০ শতাংশ রোগী মৃদু লক্ষণ দেখা দেয়ার পর পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠেন। ২০ শতাংশের কাছাকাছি রোগীর নিউমোনিয়া কিংবা বিভিন্ন অঙ্গ কাজ না করার মত গুরুতর অবস্থার সৃষ্টি হয়। লোকজন যাদের বয়স ৬০ বছরের বেশি, অথবা উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, শ্বাসকষ্ট ও ক্যানসারের মত রোগ রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে গুরুতর পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়া কিংবা মৃত্যুর সম্ভাবনা খুব বেশি। শিশুদের মধ্যে এই ভাইরাস সংক্রমণের খুব কম খবর পাওয়া গেছে এবং তাদের মধ্যে দেখা দেয়া লক্ষণগুলো তুলনামূলকভাবে মৃদু প্রকৃতির।
TOP