নির্বিচার আটক সংক্রান্ত জাতিসংঘের প্রতিবেদন নিয়ে জাপানের আপত্তি

জাপানের অভিবাসন কর্তৃপক্ষগুলো জাতিসংঘের প্যানেলের এমন একটি প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদলিপি দাখিল করেছে, যেখানে বলা হচ্ছে, দেশে ফিরে যেতে অস্বীকৃতি জানানো বিদেশি নাগরিকদের জাপানে দীর্ঘমেয়াদে আটকে রাখা একটি আন্তর্জাতিক চুক্তিপত্রের লঙ্ঘন।

জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের নির্বিচার আটক সংক্রান্ত কর্ম পর্যায়ের একটি গ্রুপ জাপানে শরণার্থী মর্যাদা লাভের অনুমতি না পাওয়া দু’জন বিদেশি নাগরিকের ঘটনা বিশ্লেষণ করে দেখেছে। একজন ইরানি এবং তুরস্কের নাগরিক একজন কুর্দি দেশে নির্যাতনের ভয়ে জাপানে আশ্রয় চান। দেশে ফিরে যেতে অস্বীকৃতি জানানোর পর তাদের দীর্ঘ মেয়াদে আটক রাখা হয়।

কর্ম পর্যায়ের গ্রুপটি এই উপসংহারে আসে যে, এ ধরনের অনির্দিষ্টকালের জন্য ব্যক্তি বিশেষকে আটকে রাখা অযৌক্তিক এবং নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তিপত্রের একাধিক অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন।

তারা গত সেপ্টেম্বর মাসে জাপান সরকারের প্রতি আইনি সংশোধন বা বিদেশি নাগরিক সামাল দেয়া সংক্রান্ত বিষয়াদি পর্যালোচনা করে দেখার আহ্বান জানায়।

জাপানের অভিবাসন সেবা এজেন্সি মার্চ মাসের ২৭ তারিখে এই কর্ম পর্যায়ের গ্রুপটির বিরুদ্ধে প্রতিবাদলিপি পেশ করে। এক বিবৃতিতে এজেন্সি জানায় যে, ঐ উপসংহারগুলো পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য কেননা, সেগুলো স্পষ্টতই জাপানের আইনি ব্যবস্থা ও এগুলোর বাস্তবায়নের তথ্যগত ভুল বোঝাবুঝির উপর ভিত্তি করে প্রণীত হয়েছে।

এজেন্সি এও জানাচ্ছে, এই দু’জন বিদেশি নাগরিকের বিচারিক পর্যালোচনা ও পরিত্রাণের সুযোগ ছিল এবং সেকারণে তাদের আটকে রাখাটা বৈষম্যমূলক ছিল না বা শরণার্থী মর্যাদায় আবেদন করার জন্য তাদের শাস্তি দেওয়ার লক্ষ্যেও তা করা হয়নি।

বিচারমন্ত্রী কামিকাওয়া ইয়োকো মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, দেশের অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সম্পর্কে কর্ম পর্যায়ের গ্রুপটির ভুল বোঝাবুঝি ও অন্যায্য মূল্যায়ন সংশোধন করার জন্য কর্মকর্তারা তাদের কাছে এ সংশ্লিষ্ট বাস্তব তথ্য ও জাপানের অবস্থানের কথা তুলে ধরেছেন।