মিয়ানমারে বিক্ষোভে একদিনে শতাধিক প্রাণহানিঃ গণমাধ্যম

মিয়ানমারের গণমাধ্যম জানাচ্ছে, সশস্ত্র বাহিনী দিবসে আয়োজিত সমাবেশগুলোতে দেশের নিরাপত্তা বাহিনী উন্মুক্ত গুলিবর্ষণ করলে ১শ’রও বেশি লোক নিহত হয়েছেন।

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর স্মারক দিবস উপলক্ষে রাজধানী নেপিদো’তে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এই অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে মিয়ানমারের সামরিক নেতা সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং গত মাসের সামরিক অভ্যুত্থানের পক্ষে সাফাই গান। তিনি বলেন, দেশ এবং এর জনগণের স্বার্থে সামরিক বাহিনী কঠোর পরিশ্রম করছে।

এদিকে, এই অনুষ্ঠানের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বিক্ষোভকারীরা দেশজুড়ে নানা সমাবেশে যোগ দেয়ার আহ্বানে সাড়া দেন। বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুন এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয়’সহ দেশের অন্যত্র তারা সমাবেত হন।

অনলাইন বার্তা সেবা “মিয়ানমার নাউ” জানাচ্ছে যে, শুধুমাত্র শনিবারেই নিরাপত্তা বাহিনীগুলো বহুবার উন্মুক্ত গুলিবর্ষণ করলে কমপক্ষে ১শ ১৪ ব্যক্তি নিহত হন। সামরিক এই অভ্যুত্থান সংঘটিত হওয়ার পর থেকে একদিনে এটিই সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে, অন্যান্য গণমাধ্যমসমূহও, বিক্ষোভে অংশগ্রহণ না করা সত্ত্বেও নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে শিশু নিহত হওয়ার খবর জানাচ্ছে। তাদের মধ্যে নিজের বাড়ির আশেপাশে খেলার সময় মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হওয়া ১৩ বছর বয়সী এক বালকও অন্তর্ভুক্ত আছে।

মিয়ানমারের মার্কিন দূতাবাসের প্রকাশ করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এগুলো কোন পেশাদার সামরিক বাহিনী বা পুলিশ বাহিনীর কাজ নয়।”

মিয়ানমারে অবস্থিত ব্রিটিশ দূতাবাসও, বেসামরিক নাগরিকদের উপর নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিবর্ষণের নিন্দা জানিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে।