প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়াতে চায় তাইওয়ান

তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, দূর পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা প্রবর্তনের মত চীনের বিরুদ্ধে নিজেদের প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়ানোর উপর তারা মনোযোগ নিবদ্ধ করবে।

মন্ত্রণালয় তাদের প্রতিরক্ষা পর্যালোচনা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেটিতে আগামী চার বছরের জন্য তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা অগ্রাধিকারের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।

ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের সামরিক বাহিনী তাইওয়ানের বিপরীতে তাদের সামরিক সক্ষমতা জোরদার করা অব্যাহত রেখেছে, যা দুর্ঘটনা ও সংঘাতের ঝুঁকির পাশাপাশি তাইওয়ান প্রণালী জুড়ে স্থিতিশীলতা ও শান্তি বিনষ্ট করছে।

প্রতিবেদনটিতে, দূর-পাল্লায় আঘাত হানার সক্ষমতার উন্নয়নকে ভবিষ্যতের জন্য একটি অগ্রাধিকার হিসেবে জোর দেয়া হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, তাইওয়ান বিমান চালিত ক্ষেপণাস্ত্র এবং দূর পাল্লার অস্ত্রের পরিমাণ বাড়িয়ে বহু স্তরের প্রতিরোধ সক্ষমতা গড়ে তুলবে।

চীনা সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত করার সক্ষমতা বাড়িয়ে চীনকে তাইওয়ানে আক্রমণ করা থেকে বিরত রাখার লক্ষ্য নিয়ে এই প্রতিরক্ষা কর্মসূচি সাজানো হয়েছে। তাইওয়ান নিজে থেকেই এধরনের অস্ত্র উন্নয়ন করে আসলেও গতবছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন তাইওয়ানের কাছে অনুরূপ অস্ত্র বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়।

এছাড়া, পুরোপুরি একটি সশস্ত্র হামলা শুরু করা নিয়ে সংশয় থাকা তথাকথিত গ্রে-জোন পরিস্থিতি সমূহে প্রতিক্রিয়া জানানোর উপায় নিয়েও নতুন একটি অধ্যায় প্রতিবেদনটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এতে উল্লেখ করা হয়, তাইওয়ানের আশেপাশের এলাকায় সামরিক বিমান এবং জাহাজের পাশাপাশি সামুদ্রিক গবেষণা জাহাজ পাঠিয়ে চীন নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা উন্নয়নের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

এছাড়া চীন, তাইওয়ানের জনগণের মতামতকে ভুল পথে চালিত করার পাশাপাশি বারংবার সাইবার-হামলা পরিচালনার মাধ্যমে সামাজিক অসন্তোষ উসকে দেয়ার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বিধায় সতর্কতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার উপরও প্রতিবেদনে জোর দেয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয়, চলতি মাসের শেষ দিকে আইন পরিষদে এই পর্যালোচনা উপস্থাপনের পরিকল্পনা করছে।