ইরাক ও সিরিয়ায় অন্তত ৪৫ জনের প্রাণহানি ঘটা মার্কিন প্রতিশোধমূলক হামলার নিন্দা ইরানের

ইরাক ও সিরিয়ায় ইরান সমর্থিত জঙ্গিদের ঘাঁটি লক্ষ্য করে মার্কিন প্রতিশোধমূলক বিমান হামলার নিন্দা জানিয়েছে ইরান। ইরাক ও সিরিয়াও এই হামলার সমালোচনা করেছে যাতে অন্তত ৪৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে বলে জানা গেছে।

মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের ভাষ্যানুযায়ী, তাদের বাহিনী শুক্রবার ইরানের ইসলামি বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর কুদস ফোর্স এবং তাদের সহযোগী আধা-সামরিক বাহিনীগুলোকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে।

হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র জন কারবি গত রবিবার সাংবাদিকদের জানান যে, জর্ডানে একটি ড্রোন হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহতের প্রতিশোধ নেবে যুক্তরাষ্ট্র।

গত শুক্রবার মার্কিন বাহিনী, ইরাক ও সিরিয়ার সাতটি স্থানে ৮৫টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে, যার মধ্যে কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ সদরদপ্তর, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন মজুদ স্থাপনা এবং কুদস ফোর্স বা আধা-সামরিক বাহিনীগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য স্থাপনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

কারবি বলেন যে, মার্কিন পদক্ষেপটি শুধুমাত্র একটি আঘাত নয় বরং সময়ের সাথে সাথে একটি ধারাবাহিক জবাব হবে। তবে তিনি এও বলেন যে, "আমরা আরেকটি যুদ্ধ চাই না। আমরা যুদ্ধ সম্প্রসারিত করার ইচ্ছা পোষণ করছিনা।"

গতকাল শনিবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে, মার্কিন হামলাকে ইরাক এবং সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেন। তিনি, মার্কিন সরকার আরেকটি কৌশলগত ভুল করেছে বলেও উল্লেখ করেন।

যুক্তরাজ্য ভিত্তিক সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের ভাষ্যানুযায়ী, সিরিয়ায় পরিচালিত হামলায় ২৬টি অবস্থানকে লক্ষ্যবস্তু করা হয় এবং এতে আধা-সামরিক বাহিনীর ১৮ জন সদস্য নিহত হন।

সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে সেনাবাহিনীর একটি বিবৃতি প্রচার করা হয়েছে, যাতে মার্কিন হামলাকে ন্যায্যতা দেয়া যেতে পারে না বলে উল্লেখ করা হয়।

ইরাকে একজন সরকারি মুখপাত্রের ভাষ্যমতে, এই হামলায় বেসামরিক নাগরিক'সহ ১৬ জন নিহত এবং অপর ২৯ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

বিবৃতিতে বলা হয় যে, মার্কিন পদক্ষেপ ইরাক এবং ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে "অতল গহ্বরের দ্বারপ্রান্তে" ঠেলে দিয়েছে এবং স্থিতিশীলতা সৃষ্টির চলমান প্রচেষ্টাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।