ইরাক ও সিরিয়ায় ইরান সমর্থিত স্থাপনায় হামলা চালানো হচ্ছে: মার্কিন সামরিক বাহিনী

মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড ঘোষণা করেছে যে, তাদের বাহিনী ইরাক ও সিরিয়ায় বিমান হামলা চালিয়েছে। ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর কুদস ফোর্স এবং সহযোগী আধা-সামরিক বাহিনীগুলোকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়।

কেন্দ্রীয় কমান্ড জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় শুক্রবার বিকাল ৪টায় ৮৫টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করা হয়।

এই লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে আধা-সামরিক বাহিনীগুলোর পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রগুলোর পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র এবং মনুষ্যবিহীন আকাশযানের সংরক্ষণাগারও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

কেন্দ্রীয় কমান্ডের ভাষ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়ে আসা দূরপাল্লার বোমারু বিমানের সংশ্লিষ্টতা থাকা এই হামলায় ১২৫টিরও বেশি নির্ভুল লক্ষ্যভেদী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়।

মার্কিন সরকারের একজন কর্মকর্তা এনএইচকে'কে জানিয়েছেন যে, গত রবিবার জর্ডানে একটি মার্কিন ফাঁড়িতে ড্রোন হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় এই হামলা চালানো হয়েছে।

হামলার পরে, হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র জন কারবি বলেছেন যে, একটি নির্দিষ্ট সময় জুড়ে "ধাপে ধাপে" এই পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখানো হবে।

গতকাল শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, তার নির্দেশ অনুযায়ী মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরাক এবং সিরিয়ায় অবস্থিত কিছু স্থাপনার এমন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে, যেগুলো মার্কিন বাহিনীকে আক্রমণ করার জন্য ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী এবং সহযোগী আধা-সামরিক বাহিনীগুলো ব্যবহার করেছিল।

তিনি এও বলেন যে, নিজেদের নির্ধারণ করা সময় এবং স্থানে মার্কিন এই প্রতিক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। তিনি এটিও বলেন যে তার দেশ মধ্যপ্রাচ্য বা বিশ্বের অন্য কোথাও সংঘাত চায় না তবে "আপনি যদি কোনও আমেরিকানের ক্ষতিসাধন করেন, তবে আমরা এর জবাব দেব।"

সিরিয়ার মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থার ভাষ্যানুযায়ী, ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর অবস্থান থাকা সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ দেইর ইজোরের ১৭টি স্থানে চালানো এই বিমান হামলায়, ১৩ জন আধা-সামরিক যোদ্ধার মৃত্যু হয়েছে।