আইএইএ বলছে ফুকুশিমা দাই-ইচি পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছেড়ে দেয়া পরিশোধিত পানি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান পূরণ করেছে

জাতিসংঘের পারমাণু নজরদার সংগঠন পুনরায় নিশ্চিত করেছে যে জাপানের বিকল ফুকুশিমা দাই-ইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে পরিশোধিত ও হালকা করে নেয়া পানি ছেড়ে দেয়া হচ্ছে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

আন্তর্জাতিক আনবিক শক্তি সংস্থার টাস্ক ফোর্স গত আগষ্ট মাসে শুরু হওয়া পানির নিঃসরণ পর্যালোচনা করে দেখার পর মঙ্গলবার প্রথম পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

এর আগে জুলাই মাসে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংস্থা বলেছিল পরিশোধিত পানি সামাল দেয়ায় জাপানের পরিকল্পনা যে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ তা তারা দেখতে পেরেছে। সংস্থা আরও উল্লেখ করেছিল যে পরিকল্পনা অনুযায়ী পানি ছেড়ে দেয়া মানুষ ও পরিবেশের উপর সামান্যই তেজস্ক্রিয় প্রভাব ফেলবে।

সর্বশেষ প্রতিবেদনে পানি ছেড়ে দেয়া শুরু হওয়ার পর টাস্ক ফোর্সের প্রথম পর্যালোচনার উপর ভিত্তি করে উপনীত সেই সিদ্ধন্ত আইএইএ পুনঃ নিশ্চিত করে।

অক্টোবর মাসে জাপানে পাঠানো মিশনে ব্রিটেন, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীন সহ ১১টি দেশের বিশেষজ্ঞরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। চীন পানি ছেড়ে দেয়ার বিরোধিতা করে আসছে।

আইএইএ এছাড়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরিচালক টোকিও বিদ্যুৎ শক্তি কোম্পানি ও জাপানের অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরিচালিত উৎস ও পরিবেশগত পর্যবেক্ষণের দৃঢ় সমর্থনে তাদের চালানো প্রচেষ্টার গুরুত্বের উল্লেখও করেছে।

সংস্থা বলছে নিয়মিত পর্যালোচনা মিশন তারা অব্যাহত রাখবে। তারা আরও জানায় যে যে পরবর্তী মিশন ২০২৪ সালের বসন্তে চালানো হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিঃসরণ পরিকল্পনার নিরাপত্তা সম্পর্কে চীনের মত দেশগুলোর বোধগম্যতা লাভের জন্য প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে আইএইএ'র সর্বশেষ প্রতিবেদনের ব্যাখ্যা প্রদানের পরিকল্পনা জাপান সরকার করেছে।

ফুকুশিমা দাই-ইচি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে গলে যাওয়া জ্বালানি শীতল করায় ব্যবহৃত পানি বৃষ্টি ও ভূগর্ভস্থ পানির সাথে মিশে যাচ্ছে। জমা হওয়া পানির বেশিরভাগ থেকে তেজস্ক্রিয় উপাদান সরিয়ে নিতে সেগুলো পরিশোধন করা হলেও এতে ট্রিটিয়াম এখনও রয়ে গেছে।

পানি সমুদ্রে ছেড়ে দেয়ার আগে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরিচালক কোম্পানি ট্রিটিয়ামের মাত্রা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকায় উল্লেখ থাকা প্রায় এক সপ্তমাংশে কমিয়ে নিতে তা হালকা করে নিচ্ছে।