পুনরায় আরম্ভ হওয়া সংসদ অধিবেশনে তহবিল কেলেঙ্কারি ঘটনার প্রাধান্য

জাপানের আইনপ্রণেতারা গতবছর যেভাবে শেষ করেছিলেন, অনেকটা সেভাবেই চলতি বছরের প্রথম সংসদ অধিবেশন আরম্ভ করেছেন। ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যকার আলোচনায় এখনও একটি রাজনৈতিক অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনা প্রাধান্য পাচ্ছে।

প্রধান ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি বা এলডিপি'র একাধিক উপদল, তহবিল সংগ্রহের পার্টি থেকে সংগৃহীত আয় সম্পর্কে ঘোষণা দিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে টিকিট বিক্রির নির্ধারিত কোটা অতিক্রমকারী সদস্যদের উৎকোচ দেয়ার অভিযোগও রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী কিশিদা ফুমিও এরকম একটি উপদলের নেতৃত্ব দিলেও, চলতি মাসের শুরুতে সেটি ভেঙে দেয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে, একসময় প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী আবে শিনযোর নেতৃত্বাধীন এলডিপির সবচেয়ে বড় উপদলের সদস্যরাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

গতকাল শুক্রবার সকালে প্রদত্ত বক্তৃতায় কিশিদা বলেন যে, জনগণ এলডিপি'কে তীক্ষ্ণ নজরে দেখছে। তিনি এও উল্লেখ করেন যে, দলকে এখন জনগণের আস্থা ফিরে পেতে হবে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী, সাধারণত ১৫০ দিনের সংসদ অধিবেশন উদ্বোধন উপলক্ষে একটি নীতি বিষয়ক বক্তৃতা দেন। তবে এবার কিশিদা, আগামী সোমবার রাজনৈতিক তহবিল নিয়ে আইনপ্রণেতাদের সাধারণ আলোচনার পর মঙ্গলবার এই বক্তৃতা দেবেন।

এই কেলেঙ্কারির জেরে এলডিপির ছয়টি উপদলের মধ্যে চারটি ভেঙে দেয়া হয়েছে। আবার, কয়েকজন সাংসদ অবশিষ্ট দুটি উপদলও ত্যাগ করে যাচ্ছেন।

বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া উপদলগুলোর মধ্যে আবে উপদলটিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সাবেক চীফ ক্যাবিনেট সেক্রেটারী মাৎসুনো হিরোকাযু'সহ উপদলটির জেষ্ঠ্য সদস্যরা বলেছেন যে, তারা আগামী সপ্তাহে উপদলটির সংশোধিত রাজনৈতিক তহবিল সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করবেন।

মাৎসুনো স্বীকার করেন যে, তার কার্যালয় গত পাঁচ বছরে তহবিল সংগ্রহকারী অনুষ্ঠানগুলো থেকে উৎকোচ হিসেবে প্রাপ্ত প্রায় ৭১ হাজার ডলার অর্থের ঘোষণা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার তিনি বলেন যে, "আবে উপদলের একজন নির্বাহী সদস্য হিসাবে আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী।"

এদিকে, কন্সটিটিউশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি বা সিডিপি'র প্রেসিডেন্ট ইযুমি কেনতা, কিশিদা ও এলডিপির নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন যে, নববর্ষের দিন নোতো উপদ্বীপে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলার দিকে সংসদের মনোনিবেশ করা উচিত।

সিডিপি একাধিক তহবিল সংস্কারেরও প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে, তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠানের উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং কোনো রাজনীতিবিদের কোষাধ্যক্ষ ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত হলে, সেই রাজনীতিবিদকেও জবাবদিহিতার আওতায় আনার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।