ফুকুশিমা পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার তৃতীয়বারের জন্য স্থগিত করা হয়েছে

জাপান সরকার এবং টোকিও বিদ্যুৎ শক্তি কোম্পানি বিকল হয়ে পড়া ফুকুশিমা দাই ইচি পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে জ্বালানীর ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে ফেলার কাজ শুরুর দিন আবারও স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মার্চ মাসে ২০২৩ অর্থবছরের শেষে একটি পরীক্ষামূলক পুনরুদ্ধার কাজ শুরুর পরিকল্পনা তারা করেছিল। তবে এখন অক্টোবর মাসে সেই কাজ শুরুর লক্ষ্য তারা ধরে নিয়েছে।

এই নিয়ে তৃতীয়বার ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে নেয়ার কাজ শুরুর পরিকল্পনা স্থগিত করা হল। বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র অকেজো করে তোলার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে এটাকে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ধ্বংসাবশেষ হচ্ছে গলে যাওয়া পরমাণু জ্বালানী এবং সেই স্থাপনার অবকাঠামোর কিছু অংশের মিশ্রণ।

বিশেষজ্ঞরা অনুমান করছেন যে ২০১১ সালের ভূমিকম্প এবং ৎসুনামি বিপর্যয়ের সময়ে গলে যাওয়া ১,২ এবং ৩ নম্বর চুল্লিতে মোট ৮৮০ টন এই ধরনের ধ্বংসাবশেষ রয়েছে।

সরকার এবং টেপকো পরীক্ষামূলক ভিত্তিতে ২ নম্বর চুল্লি থেকে কয়েক গ্রাম ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা করছে৷

দূর নিয়ন্ত্রিত একটি রোবোট হাত ব্যবহারের পরিকল্পনা তারা করেছিল। রোবট হাতকে চুল্লির আধারে প্রবেশ করানো পাইপের পথ বন্ধ করে রাখা পলি সরিয়ে ফেলার কাজ এই মাসের প্রথম দিকে শুরু হয়েছিল।

তবে পরিকল্পনা অনুযায়ী সেই কাজ এগোয়নি এবং সরকার ও টেপকো পরিকল্পনাটি সংশোধন করার সিদ্ধান্ত নেয়।

এর পরিবর্তে তারা জমে থাকা পলির ফাঁক দিয়ে একটি টেলিস্কোপিক স্টিক-আকৃতির যন্ত্র ঢোকানোর মধ্যে দিয়ে ধ্বংসাবশেষ পুনরুদ্ধারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নতুন পরিকল্পনা এবং যন্ত্রের নকশা উভয়ই পরমাণু নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে অনুমোদন করতে হবে, যার ফলে প্রক্রিয়াটি শুরু করার সময় পুনরায় ছয় মাসেরও বেশি সময় পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।