তথ্যপঞ্জি

করোনাভাইরাস সম্পর্কিত প্রশ্নোত্তর

নতুন করোনাভাইরাস সম্পর্কে আমাদের শ্রোতাদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন এনএইচকে’র বিশেষজ্ঞরা।

প্রশ্ন-১. "করোনাভাইরাস কি?"
প্রশ্ন-২. "আমরা কিভাবে সংক্রমিত হই এবং আমরা কিভাবে সংক্রমিত হওয়া প্রতিরোধ করতে পারি?"
প্রশ্ন-৩. "গর্ভবতী নারীদের কোন কোন বিষয়ে সর্তক থাকা উচিৎ?"
প্রশ্ন-৪. "আমরা কিভাবে আমাদের জামাকাপড় সংক্রমণমুক্ত করতে পারি?"
প্রশ্ন-৫. "একজন ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর কি কি লক্ষণ দেখা দেয়?"
প্রশ্ন-৬. "করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হবার পর কাদের মধ্যে গুরুতর লক্ষণ দেখা দেয়?"
প্রশ্ন-৭. "করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে শিশুদের মধ্যে কি মারাত্মক লক্ষণ দেখা দেয়?"
প্রশ্ন-৮. "জাপান কি করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় কোন কার্যকরী ওষুধ বের করতে পেরেছে?"
প্রশ্ন-১০. "কোন অবস্থায় আমরা বলতে পারি যে সংক্রমণের সমাপ্তি ঘটেছে?"
প্রশ্ন-১১.  "সাবান দিয়ে জীবাণুনাশ করলে কি সেটা অ্যালকোহল ব্যবহারের মতই কার্যকর হবে?"
প্রশ্ন-১৩. "২০০৩ সালের সার্স রোগের প্রাদুর্ভাবের সময় শোনা গিয়েছিল যে একটি ড্রেনের পাইপের ছিদ্র দিয়ে বের হয়ে আসা বর্জ্যপানির মাধ্যমে ভাইরাস ছড়ানোর ঘটনা ঘটেছিল। সার্স করোনাভাইরাসের সঙ্গে নতুন প্রজাতির এই করোনাভাইরাসের মিল থাকার কথা বলা হচ্ছে। তাহলে সেরকম কোন ঘটনা কি নতুন করোনাভাইরাসের মাধ্যমেও ঘটতে পারে?"
প্রশ্ন-১৪. "করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হবার পর তরুণরা কি গুরুতর অসুস্থ হয়?"
প্রশ্ন-১৫. "চীনের উহান শহর, ইতালি এবং ইউরোপের অন্যান্য দেশে কি করোনাভাইরাস পরিবর্তিত হচ্ছে?"

>>১৬ নং ও এর পরের প্রশ্নে যেতে




প্রশ্ন-১: করোনাভাইরাস কি? 

উত্তর-১: করোনাভাইরাস হচ্ছে একধরনের ভাইরাস যা মানুষ ও অন্য প্রাণীকে সংক্রমিত করে। সাধারণত, এটি মানুষের মধ্যে বিস্তার লাভ করে এবং এর ফলে সাধারণ সর্দিজ্বরের মত লক্ষণ যেমন কাশি, জ্বর ও সর্দি দেখা দেয়। ২০১২ সালে সৌদি আরবে প্রথম নিশ্চিত হওয়া মিডল ইস্ট রেসপিরেটরি সিনড্রোম বা মার্স সৃষ্টিকারী ভাইরাসটির মত করোনাভাইরাস নিউমোনিয়া কিংবা অন্য জটিল লক্ষণের সৃষ্টি করতে পারে।

বিশ্বজুড়ে মহামারী সৃষ্টিকারী করোনাভাইরাসটি হচ্ছে এর একটি নতুন প্রজাতি। এই ভাইরাসে সংক্রমিত ব্যক্তির মধ্যে জ্বর, ক্লান্তিবোধ, কফ, শ্বাসকষ্ট, গলা ব্যাথা এবং মাথা ব্যাথার মত বিভিন্ন লক্ষণ দেখা দেয়। প্রায় ৮০ শতাংশ রোগী মৃদু লক্ষণ দেখা দেয়ার পর পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠেন। ২০ শতাংশের কাছাকাছি রোগীর নিউমোনিয়া কিংবা বিভিন্ন অঙ্গ কাজ না করার মত গুরুতর অবস্থার সৃষ্টি হয়। লোকজন যাদের বয়স ৬০ বছরের বেশি, অথবা উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, শ্বাসকষ্ট ও ক্যানসারের মত রোগ রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে গুরুতর পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়া কিংবা মৃত্যুর সম্ভাবনা খুব বেশি। শিশুদের মধ্যে এই ভাইরাস সংক্রমণের খুব কম খবর পাওয়া গেছে এবং তাদের মধ্যে দেখা দেয়া লক্ষণগুলো তুলনামূলকভাবে মৃদু প্রকৃতির।




প্রশ্ন-২: আমরা কিভাবে সংক্রমিত হই এবং আমরা কিভাবে সংক্রমিত হওয়া প্রতিরোধ করতে পারি?

উত্তর-২: বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন নতুন করোনাভাইরাস মৌসুমী ফ্লু বা সাধারণ সর্দিজ্বরের মতই সর্দি বা কাশির জলীয় অংশ অথবা ভাইরাস লেগে থাকা কোন স্থান স্পর্শ করার মাধ্যমে ছড়িয়ে থাকে। এর মানে হল সংক্রমিত ব্যক্তি যখন কাশি বা হাঁচি দেয় তখন যে জলীয় অংশ নির্গত হয় তার মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়ায়। একজন ব্যক্তি এই ভাইরাস লেগে থাকা দরজার হাতল বা ট্রেনের হাতল ধরার পর সেই হাত দিয়ে যদি তার নাক কিংবা মুখ স্পর্শ করে তাহলেও সে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হতে পারে। ধারণা করা হয় করোনাভাইরাস মৌসুমী ফ্লু’র মত একই মাত্রার সংক্রামক।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধের মূল পদক্ষেপগুলো মৌসুমী ফ্লু মোকাবিলায় নেয়া পদক্ষেপগুলোর অনুরূপ। যেমন– হাত ধোয়া এবং কাশি দেয়ার শিষ্টাচার।

যখন কেউ হাত ধুবে, তখন তাকে সাবান ব্যবহার করতে হবে এবং কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড ধরে বহমান পানি দিয়ে হাতের কব্জি পর্যন্ত প্রতিটি অংশ খুব ভালো করে ধুতে হবে। অথবা কেউ অ্যালকোহল ভিত্তিক স্যানিটাইজারও ব্যবহার করতে পারে। এই ভাইরাসের সংক্রমণের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হল কাশি দেয়ার সময় শিষ্টাচার অনুসরণ করা। যখন কেউ কাশি দিবে তখন সে টিস্যু কাগজ বা জামার হাতা দিয়ে নাক ও মুখ ঢেকে রাখবে যাতে করে ভাইরাস থাকা জলীয় অংশ অন্য কারও উপর ছড়িয়ে না পরে। অন্যান্য কার্যকর পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে জনবহুল এলাকা এড়িয়ে চলা এবং বাসায় থাকার সময় বাতাস চলাচলের জন্য জানালাগুলো খুলে রাখা।

জাপানে প্রত্যেক রেল কোম্পানিকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে তারা ট্রেনের যাত্রী ভর্তি কারের জানালাগুলো খোলা রাখবে কিনা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রেনের কারগুলো যাত্রীদের উঠানামার জন্য যখন বিভিন্ন স্টেশনে থামে তখন এর দরজাগুলো খুলে যাওয়ার ফলে সেখানে একটি নির্দিষ্ট মাত্রার বাতাস চলাচলের সৃষ্টি হয়।




প্রশ্ন-৩: গর্ভবতী নারীদের কোন কোন বিষয়ে সর্তক থাকা উচিৎ? 

উত্তর-৩: করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের প্রাক্কালে ধাত্রীবিদ্যা ও স্ত্রীরোগ বিজ্ঞানে সংক্রামক ব্যাধি বিষয়ক জাপান সোসাইটি গর্ভবতী মা এবং গর্ভধারণে ইচ্ছুক নারীদের জন্য পরামর্শ সম্বলিত দলিল প্রকাশ করেছে।

সোসাইটি বলছে এখন পর্যন্ত এমন কোন তথ্য পাওয়া যায়নি যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে গর্ভবতী নারীদের মধ্যে জটিল লক্ষণ দেখা দেয়ার সম্ভাবনা বেশি কিংবা এই ভাইরাস ভুমিষ্ট না হওয়া শিশুর ক্ষেত্রে কোন সমস্যার সৃষ্টি করেছে।

তবে সোসাইটি সতর্ক করছে যে, সাধারণভাবে এই ভাইরাসের কারণে গর্ভবতী নারীদের নিউমোনিয়া হলে তারা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পরতে পারেন।

সোসাইটি গর্ভবতী নারীদের বিশেষ করে বাইরে যাওয়ার পর এবং খাবার গ্রহণের আগে সাবান এবং বহমান পানি দিয়ে হাত পুরোপুরি ধুয়ে নিতে এবং অ্যালকোহল ভিত্তিক জীবাণুনাশক ব্যবহারের মত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছে।

অন্য যেসব সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পরামর্শ দেয়া হয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বর ও কাশি থাকা ব্যক্তিদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা, নিরাপত্তামূলক মাস্ক পরিধান করা এবং নিজের হাত দিয়ে নাক ও মুখ স্পর্শ না করা। নিহন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক সাতোশি হায়াকাওয়া এই দলিলটি প্রণয়ন করেছেন। তিনি বলছেন, গর্ভবতী নারীরা যে উদ্বেগ অনুভব করছেন তা তিনি বুঝতে পারছেন। তবে তিনি তাদেরকে বিশ্বাসযোগ্য ও নির্ভুল তথ্যের উপর ভিত্তি করে পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন কারণ সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাবের সময় সব ধরনের ভুল তথ্য ছড়িয়ে পরে।




প্রশ্ন-৪: আমরা কিভাবে আমাদের জামাকাপড় সংক্রমণমুক্ত করতে পারি? আমরা জানবো যে কাপড় ধোয়া হলে সেটা থেকে ভাইরাস দূর হয়ে যাবে নাকি কাপড় ধোয়ার সময় অ্যালকোহলের জীবাণুনাশক ব্যবহার করা উচিৎ হবে।

উত্তর-৪:  সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক জাপানি সোসাইটির এরিসা সুগাওয়ারা বলছেন কাপড়ে অ্যালকোহলের জীবাণুনাশক ব্যবহারের কোন প্রয়োজন নেই। তিনি এর ব্যাখ্যা করে বলেন যে স্বাভাবিক কাপড় ধোয়ার পদ্ধতিতেই বেশিরভাগ ভাইরাস কাপড় থেকে দূর হয়ে যায়। যদিও নতুন করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে একথা এখনও প্রমাণিত হয়নি।

কাশি বা হাঁচি দেয়ার সময় মুখ ঢাকার জন্য ব্যবহৃত রুমালের মত যেসব কাপড়ের মধ্যে এই ভাইরাসটি থাকতে পারার সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে হবে সেগুলো ১৫ থেকে ২০ মিনিট ফুটন্ত পানিতে ভিজিয়ে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন সুগাওয়ারা।




প্রশ্ন-৫: একজন ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর কি কি লক্ষণ দেখা দেয়?

উত্তর-৫:  বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞসহ বিশেষজ্ঞদের একটি যৌথ দল এ সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। দলটি ফেব্রুয়ারির ২০ তারিখ পর্যন্ত চীনে নিশ্চিতভাবে আক্রান্ত ৫৫,৯২৪ ব্যক্তির লক্ষণ বিস্তারিত বিশ্লেষণ করেন।

রিপোর্টে বলা হয়েছে ৮৭.৯ শতাংশ রোগীর জ্বর ছিল, ৬৭.৭ শতাংশের কাশি দেখা গিয়েছিল, ৩৮.১ শতাংশ ক্লান্তিবোধের অভিযোগ করেছিলেন এবং ৩৩.৪ শতাংশের কফ ছিল। অন্যান্য লক্ষণের মধ্যে ছিল শ্বাসকষ্ট, গলা ব্যাথা এবং মাথা ব্যাথা। আক্রান্তদের মধ্যে গড়ে ৫ থেকে ৬ দিনের মধ্যে এসব লক্ষণ প্রকাশ পায়।

আক্রান্তদের প্রায় ৮০ শতাংশের মধ্যে তুলনামূলকভাবে মৃদু লক্ষণ দেখা গিয়েছিল। কিছু লোকের নিউমোনিয়া হয়নি। আক্রান্তদের মধ্যে ১৩.৮ শতাংশ গুরুতর অসুস্থ হন এবং শ্বাসকষ্টে ভুগেন।

৬০ বছর বা ততোর্ধ ব্যক্তি এবং যাদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, দীর্ঘদিন যাবৎ শ্বাসকষ্টে ভুগছেন এবং যাদের ক্যান্সার রয়েছে তাদের মারাত্মক অথবা প্রাণনাশক লক্ষণ দেখা যায়। শিশুদের আক্রান্ত হবার বা গুরুতর অসুস্থ হবার তেমন কোন খবর পাওয়া যায়নি। আক্রান্তদের মধ্যে মাত্র ২.৪ শতাংশ ১৮ বছর বা তার চেয়ে কম বয়সী।

বিশ্ব স্বাস্থ্য এবং চিকিৎসার জাতীয় কেন্দ্রের ডাক্তার সাতোশি কুৎসুনা জাপানে ভাইরাসের পরীক্ষায় ইতিবাচক ফল পাওয়া রোগীদের চিকিৎসা করছেন। কাৎসুনা বলেন তিনি দেখেছেন রোগীদের সর্দি, গলা ব্যাথা এবং কাশি ছিল। তাদের সবার ক্লান্তিবোধ এবং প্রায় এক সপ্তাহ পর্যন্ত ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি জ্বর ছিল।

ডাক্তার জানান কিছু লোকের ক্ষেত্রে এক সপ্তাহ পর উচ্চ তাপমাত্রা দেখা গিয়েছিল। তিনি বলেন এ লক্ষণগুলো মৌসুমি ফ্লু বা অন্যান্য ভাইরাসে সৃষ্ট রোগের চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী ছিল।

এ তথ্যগুলো মার্চের ১৯ তারিখ পর্যন্ত নেয়া।




প্রশ্ন-৬: করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হবার পর কাদের মধ্যে গুরুতর লক্ষণ দেখা দেয়?

উত্তর-৬:  বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে যে যাদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগসহ এমন রোগ রয়েছে যা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেয় তাদের অনেকের ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

এটা নিশ্চিত যে যাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল তাদের শুধুমাত্র নতুন করোনাভাইরাস নয় বরং মৌসুমী ইনফ্লুয়েঞ্জার মত সাধারণ সংক্রমণের থেকেও সাবধান হতে হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যাদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগ রয়েছে, যারা বাতসহ অন্যান্য রোগের জন্য রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস করার ওষুধ গ্রহণ করছেন এবং বয়স্কদের এর অন্তর্ভুক্ত করেছে।

দীর্ঘদিন ধরে রোগে ভোগা রোগীদের সাথে তাদের লক্ষণের প্রকাশ কতটা মারাত্মকভাবে সম্পর্কিত গবেষকরা তা খুঁজে বের করেননি।

গর্ভবতী নারীরা করোনা ভাইরাসের উচ্চ ঝুঁকির তালিকায় রয়েছেন এমন কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে সাধারণভাবে বলা যায় তারা ভাইরাসে সংবেদনশীল এবং যদি তাদের নিউমোনিয়া দেখা দেয় তবে তা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।

ছোট শিশুদের ক্ষেত্রেও করোনাভাইরাসে কি ধরণের লক্ষণ দেখা দেয় তা সংক্রান্ত কোন তথ্য নেই। তবে বলা হচ্ছে যে তারা নিজেরা হাত ধোয়া বা ভীড় এড়িয়ে চলার মতো প্রতিরোধক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে না বিধায় তাদের অভিভাবকদের প্রতি শিশুদের রক্ষা করতে যা করা সম্ভব তা করার আহবান জানানো হচ্ছে।




প্রশ্ন-৭:  করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে শিশুদের মধ্যে কি মারাত্মক লক্ষণ দেখা দেয়?

উত্তর-৭:  নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সময় শিশুদের মধ্যে মারাত্মক লক্ষণ দেখা দিয়েছিল এমন কোন তথ্য চীন থেকে পাওয়া যায়নি। 

চীনের রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিরোধ কেন্দ্রের একটি গবেষক দল বিশ্লেষণ করেছেন যে ফেব্রুয়ারির ১১ তারিখ পর্যন্ত দেশটিতে আক্রান্ত ৪৪,৬৭২ জনের মধ্যে নয় বছর বা তার চেয়ে কম বয়সী কোন শিশু সংক্রমণে মারা যায়নি। রোগীদের মধ্যে কিশোর বয়সী মাত্র একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

উহান বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের একদল গবেষক জানিয়েছেন চীনের মূল ভূখন্ডে ফেব্রুয়ারির ৬ তারিখের মধ্যে এক মাস থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের মধ্যে করোনাভাইরাসের পরীক্ষায় ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া গেছে। তাদের কেউই গুরুতর অসুস্থ হয়নি।

শিশুদের সংক্রামক ব্যাধির একজন বিশেষজ্ঞ হলেন আইচি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ৎসুনেও মোরিশিমা। মোরিশিমা জানান কিছু ক্ষেত্রে করোনাভাইরাসের বজায় থাকা প্রজাতির সাথে নতুন ভাইরাসের মিল রয়েছে, যারা প্রায়ই সাধারণ সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত হন তাদের এর প্রতিরোধক ক্ষমতা থাকতে পারে।

অধ্যাপক আরও জানান যে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে কারণ সংক্রমণ দ্রুত স্কুল এবং শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তিনি বলেন শিশুরা যাতে নিয়মিত তাদের হাত পরিস্কার করে এবং তাদের থাকার কক্ষে যাতে যথেষ্ট বায়ু চলাচল করে তা অভিভাবকদের নিশ্চিত করতে হবে।

এ তথ্যগুলো মার্চের ২৪ তারিখ পর্যন্ত নেয়া।




প্রশ্ন-৮: আমাদের এবারের প্রশ্ন এসেছে ইন্দোনেশিয়ার শ্রোতা নুরদিয়ান শিয়াহ’র কাছ থেকে। তিনি প্রশ্ন করেছেন জাপান কি করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় কোন কার্যকরী ওষুধ বের করতে পেরেছে?

উত্তর-৮: দু:খজনক হলেও সত্যি যে ইনফ্লুয়েঞ্জা চিকিৎসায় যেমন তামিফ্লু এবং জোফ্লুযা ব্যবহার করা হয় তেমন করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকরী কোন ওষুধ এখনো বের করা সম্ভব হয়নি। অন্যান্য দেশের মতো, জাপানের চিকিৎসকরাও লক্ষণের ওপর নজর রেখে চিকিৎসা চালাচ্ছেন। যেমন রোগীকে অক্সিজেন সাপোর্টে রাখা এবং পানিশূন্যতার জন্য শরীরে স্যালাইন  দেয়া।

যদিও ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকরী কোন ওষুধ এখনো আবিষ্কৃত হয়নি, তবে জাপান এবং বিশ্বজুড়ে ডাক্তারেরা এর চিকিৎসায় কাজ করতে পারে ভেবে বিদ্যমান ওষুধগুলো ব্যবহার করছেন।

এর একটি হচ্ছে ছয় বছর আগে জাপানের একটি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির উদ্ভাবিত ফ্লু প্রতিরোধী ওষুধ এভিগান। চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে করোনাভাইরাসের রোগীদের চিকিৎসায় এটি কার্যকর হয়েছে।

জাপানের বৈশ্বিক স্বাস্থ্য এবং চিকিৎসার জাতীয় কেন্দ্র জানিয়েছে তারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এক রোগীর ক্ষেত্রে এইডস রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত একটি এন্টিভাইরাল ওষুধ ব্যবহার করেছে। কেন্দ্রটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন রোগীর জ্বর নেমে গিয়েছিল এবং ক্লান্তিবোধ ও শ্বাসকষ্টের উন্নতি হয়েছিল। 

বিভিন্ন দেশে এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকরী চিকিৎসা বের করার চেষ্টা চলছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিরোধ কেন্দ্রের গবেষকরাসহ গবেষকদের একটি দল করোনাভাইরাসের কারণে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়া এক ব্যক্তির ওপর ইবোলা চিকিৎসায় ব্যবহৃত একটি এন্টিভাইরাল ওষুধ প্রয়োগ করার কথা জানিয়েছেন। গবেষকরা বলেছেন ওষুধটি প্রয়োগ করার পর ঐ ব্যক্তির দেখা দেওয়া লক্ষণসমূহের উন্নতি হতে থাকে। তারা জানান তাকে আর অক্সিজেন দেবার প্রয়োজন হয়নি এবং তার জ্বর নেমে গিয়েছিল।

থাইল্যান্ডের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে ফ্লু এবং এইডস্‌ রোগে ব্যবহৃত ওষুধ একত্রে ব্যবহারের ফলে এক রোগীর অবস্থার উন্নতি হয়েছিল এবং পরে তিনি করোনাভাইরাস মুক্ত হন।

তবে প্রতিক্ষেত্রেই বিশেষজ্ঞরা বলেছেন ওষুধগুলোর নিরাপত্তা এবং কার্যকারিতা পরীক্ষায় পুনরায় ক্লিনিক্যাল গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

এ তথ্যগুলো মার্চের ২৫ তারিখ পর্যন্ত নেয়া।




প্রশ্ন-১০: কোন অবস্থায় আমরা বলতে পারি যে সংক্রমণের সমাপ্তি ঘটেছে?

উত্তর-১০: শিগেরু ওমি হলেন নতুন করোনাভাইরাস সংক্রান্ত সরকারি বিশেষজ্ঞ প্যানেলের ভাইস চেয়ার এবং জাপান কমিউনিটি স্বাস্থ্য সেবা সংস্থার প্রেসিডেন্ট। তিনি এর আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় নেয়া পদক্ষেপের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, সংক্রমণের সমাপ্তি ঘটার অর্থ হচ্ছে সংক্রমণ শৃংখল থেমে গেছে এবং আর কোন সংক্রমিত ব্যক্তি নেই।

স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সমাপ্তির ঘোষণা দিতে পারে যদি ডব্লিউএইচও’র নির্ধারিত মানের ভিত্তিতে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কোন নতুন সংক্রমণ ঘটেনি বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।

উদাহরণস্বরূপ, ২০০৩ সালে সার্স প্রধানত চীন ও এশিয়ার অন্যান্য অংশে বিস্তার লাভ করেছিল। ডব্লিউএইচও প্রথম সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়ার আট মাস পরে এর সমাপ্তি ঘোষণা করেছিল।

অপরদিকে, লোকজনকে বাইরে বের হতে নিষেধ করার মত বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ার মাধ্যমে কোন সুনির্দিষ্ট এলাকা বা দেশে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সংক্রমণের বিস্তার হয়তো নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা যায়।

তবে, সেই এলাকার বাইরে থেকে ভাইরাস এসে আবারও সেখানে সংক্রমণের বিস্তার ঘটার সম্ভাবনা থাকে। যেমন- মৌসুমী ইনফ্লুয়েঞ্জা শীতকালে বিস্তার লাভ করে এবং সাময়িকভাবে কমে যায় কিন্তু এখন পর্যন্ত এর সমাপ্তি ঘটেনি।

সংক্রমণের বিস্তার ও জটিল আকারে রুপ নেয়া ঠেকাতে টিকা এবং ওষুধ কার্যকর ভূমিকা রাখে। তবে ওমি বলেন, টিকা ও ওষুধের সজলভ্যতা এবং সংক্রমণের সমাপ্তি ঘটবে কিনা – এ দুটো ভিন্ন বিষয়।
 
ওমি বলেন, স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সংক্রমণের পরিপূর্ণ সমাপ্তিকে লক্ষ্য ধরে সংক্রমণ রোধ করার প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিতে সচেষ্ট থাকবে।

এ তথ্যগুলো মার্চের ২৭ তারিখ পর্যন্ত নেয়া।




প্রশ্ন-১১: সাবান দিয়ে জীবাণুনাশ করলে কি সেটা অ্যালকোহল ব্যবহারের মতই কার্যকর হবে?

উত্তর-১১: টোকিও’র সেন্ট লুক’স আন্তর্জাতিক হাসপাতালের সাকামোতো ফুমিএ একজন সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, একটি নির্দিষ্ট পর্যায় পর্যন্ত সাবান কার্যকরী।

সাকামোতো বলেন, সাবানে সাধারণত সার্ফেক্টেন্ট থাকে যা করোনাভাইরাসের উপরিভাগে থাকা লিপিড স্তরকে ধ্বংস করতে পারে। তিনি বলেন, এর অর্থ হল একটা নির্দিষ্ট পর্যায় পর্যন্ত ভাইরাসকে ধ্বংস করা যায়।

সাকামোতো বলেন, অ্যালকোহলও কার্যকর, তবে আপনার হাত যদি নোংরা থাকে সেক্ষেত্রে অনেক সময় জীবাণুনাশকের জন্য সংক্রামকের ভেতরে যাওয়া কঠিন হয়ে পরে।

সাকামোতো লোকজনকে নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার জন্য আহ্বান জানান।




প্রশ্ন-১৩: ২০০৩ সালের সার্স রোগের প্রাদুর্ভাবের সময় শোনা গিয়েছিল যে একটি ড্রেনের পাইপের ছিদ্র দিয়ে বের হয়ে আসা বর্জ্যপানির মাধ্যমে ভাইরাস ছড়ানোর ঘটনা ঘটেছিল। সার্স করোনাভাইরাসের সঙ্গে নতুন প্রজাতির এই করোনাভাইরাসের মিল থাকার কথা বলা হচ্ছে। তাহলে সেরকম কোন ঘটনা কি নতুন করোনাভাইরাসের মাধ্যমেও ঘটতে পারে?

উত্তর-১৩: নতুন এই ভাইরাস এবং সার্স ভাইরাস একই করোনাভাইরাস পরিবারভুক্ত। সার্স সৃষ্টিকারী করোনাভাইরাস শুধুমাত্র গলা ও ফুসফুসেই নয় বরং ইন্টেস্টাইনেও এর সংখ্যা বৃদ্ধি করে বলে জানা গেছে। ২০০৩ সালে বিশ্বের বিভিন্ন অংশে যখন সার্স ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছিল তখন হংকং-এর এক কন্ডোমিনিয়ামে গণসংক্রমণের খবর পাওয়া যায়। সন্দেহ করা হয় যে পুরাতন ড্রেনপাইপের ছিদ্র থেকে ভাইরাস থাকা জলীয় অংশ বেরিয়ে আসার কারণে সেই গণসংক্রমণের ঘটনা ঘটেছিল।

তোহোকু মেডিকেল ও ফার্মাসিউটিকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কাকু মিৎসুও, যিনি সংক্রমণ প্রতিরোধী পদক্ষেপের একজন বিশেষজ্ঞ, উল্লেখ করেন যে তুলনামূলকভাবে উচ্চ মাত্রার স্বাস্থ্যসম্মত অবস্থা থাকা দেশগুলোতে ড্রেনের পাইপের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকি কম। তবে তিনি বলেন, ভাইরাসের পক্ষে টয়লেটের উপরিতল ও আশেপাশের স্থানে লেগে থাকা সম্ভব এবং আপনি ভাইরাস লেগে থাকা স্থানে হাত দিয়ে স্পর্শ করার মাধ্যমে সংক্রমিত হতে পারেন। তিনি বলেন, লোকজনের উচিত হবে ফ্লাশ করার আগে টয়লেটের ঢাকনা বন্ধ করে নেয়া এবং টয়লেট ব্যবহার করার পরে হাত খুব ভালো করে ধুয়ে নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, লোকজনকে পানির কল, বেসিন এবং দরজার নব ভালো করে জীবাণুমুক্ত করে নেয়ার মত বিভিন্ন দৈনন্দিন জীবনের স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রাখতে অবশ্যই কাজ করতে হবে।

এ তথ্যগুলো এপ্রিলের ১ তারিখ পর্যন্ত নেয়া।




প্রশ্ন-১৪: করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হবার পর তরুণরা কি গুরুতর অসুস্থ হয়?

উত্তর-১৪: বিশেষজ্ঞরা সাধারণত বলেন যে বয়স্ক ব্যক্তিরা এবং যারা আগে থেকেই কোন রোগে আক্রান্ত তারা আক্রান্ত হলে তাদের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হয়। তবে গতমাসে সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা যায় ব্রিটেনে একজন ২১ বছর বয়সী তরুণী এবং ফ্রান্সের ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরী আক্রান্ত হবার পর মারা যান, যাদের দু’জনেরই পূর্বে কোন গুরুতর শারীরিক অসুস্থতা ছিল না। সাম্প্রতিক সংক্রমণের ঘটনাগুলো থেকে দেখা যায় যে কিছু কম বয়সীরাও মারাত্মক অসুস্থ হতে পারেন।

জাপানেও তুলনামূলকভাবে তরুণ বয়সীদের গুরুতর অসুস্থ হতে দেখা গেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য এবং চিকিৎসার জাতীয় কেন্দ্রের সাতোশি কুৎসুনা জানান তিনি চিকিৎসা প্রদান করা ৩০ জনেরও বেশি রোগীর মধ্যে ৪০ এর কোঠার প্রথমার্ধে বয়সী একজনের পূর্বে কোন রোগ না থাকলেও গুরুতর লক্ষণ দেখা যায়।

কুৎসুনা বলেন ঐ ব্যক্তির প্রথম কয়েকদিন শুধুমাত্র জ্বর এবং কাশি থাকলেও এক সপ্তাহ পর তার মারাত্মক নিউমোনিয়া দেখা যায় এবং দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস অবস্থার অবনতি হওয়ার কারণে রেসপিরেটরের প্রয়োজন হয়। তিনি জানান ঐ ব্যক্তি পরে আরোগ্য লাভ করেন।

কুৎসুনা বলেন যে তরুণদের এটা ভাবা উচিৎ নয় যে তারা সুস্থ থাকবেন কারণ তারাও মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হতে পারেন।

৫০ এর নীচের বয়সী অনেককে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করে দিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিরোধ কেন্দ্রের প্রতিবেদনে জানা যায় ২০ থেকে ৪৪ বছর বয়সী আক্রান্তদের দুই থেকে চার শতাংশ নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রয়েছে।

এ তথ্যগুলো এপ্রিলের ২ তারিখ পর্যন্ত নেয়া।




প্রশ্ন-১৫: চীনের উহান শহর, ইতালি এবং ইউরোপের অন্যান্য দেশে কি করোনাভাইরাস পরিবর্তিত হচ্ছে?

উত্তর-১৫: মার্চ মাসের শুরুতে চীনের একটি গবেষক দল সারা বিশ্বের প্রায় ১০০’রও বেশি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী থেকে নেয়া করোনাভাইরাসের জিন পরীক্ষা করে দেখেছেন। জিনের বৈশিষ্ট্যসূচক পার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে দলটি এল-টাইপ এবং এস-টাইপ এই দু’ধরণের জিন পায়।

দলটি দেখতে পায় যে বাঁদুড়ের দেহ থেকে পাওয়া করোনাভাইরাসের জিনের সাথে এস-টাইপের যথেষ্ট মিল রয়েছে। এল-টাইপ ভাইরাস ব্যাপকভাবে পাওয়া গেছে ইউরোপীয় দেশগুলোর রোগীদের মধ্যে এবং ধারণা করা হচ্ছে যে তুলনামূলকভাবে এটি এস-টাইপ থেকে নতুন ধরণের।

ভাইরাসের বৈশিষ্ট্যসমূহ নিয়ে গবেষণা করা রিৎসুমেইকান বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ইতো মাসাহিরো জানান করোনাভাইরাস সহজে পরিবর্তিত হতে পারে এবং ধারণা করা হচ্ছে যে অনেক মানুষকে সংক্রমিত করার মধ্য দিয়ে এটি পরিবর্তিত হচ্ছে এবং ভাইরাসের বিস্তারের পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছে।

এদিকে, আরো সহজে বিস্তারের জন্য ভাইরাসটির পরিবর্তনের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে ইতো বলেন ভাইরাসটি এখনো এমন পর্যায়ে রয়েছে যেখানে বিবেচনায় নেওয়ার মতো জিনের পরিবর্তন ঘটায়নি। তিনি বলেন এমনকি যদিও এল-টাইপ এবং এস-টাইপ জিনের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে তথাপি কোন ধরণটি বেশি মারাত্মক অবস্থার সৃষ্টি করে সে বিষয়ে এখনো তথ্যের ঘাটতি রয়েছে। ইতো বলেন যদিও দেশভেদে রোগের প্রবলতা এবং মৃত্যুর হার ভিন্ন তারপরেও ধারণা করা হচ্ছে যে যেকোন দেশের বয়স্ক জনগোষ্ঠীর অনুপাত, সংস্কৃতি এবং খাদ্যাভাসসহ জনগণ নিজেরাই এই ভিন্নতার সৃষ্টি করছে।

এ তথ্যগুলো এপ্রিলের ৩ তারিখ পর্যন্ত নেয়া।