রেডিও জাপানের বাংলা বিভাগঃ
রেডিও জাপানের বাংলা বিভাগঃ
বিশ্বের আধুনিক ইতিহাসের পাতা খুললে দেখা যায়, জাপান ও বঙ্গভূমির মধ্যকার সম্পর্ক বরাবর মধুর এবং সৌহার্দপূর্ণ ছিল । বিশেষ করে এ কথা সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ক্ষেত্রে বলা যায় । আধুনিক যুগের বিভিন্ন উত্থান পতনের মধ্য দিয়ে গেলেও জাপানের প্রতি রবীন্দ্রনাথের ভালবাসা এবং বিশ্ব কবির প্রতি জাপানীদের শ্রদ্ধার মাধ্যমে শুরু হওয়া সাংস্কৃতিক-মনা দুই জাতির মধ্যকার সুন্দর বন্ধনে কোন দিন চিড় ধরেনি ।
সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন একে অন্যকে জানার । এক্ষেত্রে সামান্য হলেও রেডিও জাপান অবদান রাখতে পেরেছে বোলে আমরা মনে করি । বাঙ্গালীদের সামনে জাপান ও জাপানীদের সঠিক ভাবমূর্তি তুলে ধরা এবং দুই জাতিগোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর করতে রেডিও জাপান অবিরাম প্রয়াস চালিয়ে আসছে । দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ চলাকালে ১৯৪৩ সালে, জাপান থেকে শর্ট ওয়েভের মাধ্যমে বাংলায় অনুষ্ঠান প্রচার শুরু হয় । তখন বেতার কেন্দ্রের নাম ছিল রেডিও টোকিও । যুদ্ধ অবসানের সঙ্গে এই অনুষ্ঠান সম্প্রচারও বন্ধ হয়ে যায় । তারপর ১৯৬১ সালের ৩রা এপ্রিল, রেডিও জাপান থেকে বাংলা অনুষ্ঠান আবার শুরু হয় এবং পরবর্তীতে এই সম্প্রচার কার্যক্রম বিরতিহীন ভাবে চলে আসছে । স্বাধীন বাংলাদেশের আবির্ভাবের ফলে বাংলা ভাষাভাষী মানুষের সাথে জাপানীদের বিনিময় কার্যক্রম বহুদিকে সম্প্রসারিত হয়েছে । ব্যবসা, বাণিজ্য, বিনিয়োগসহ সামাজিক- সাংস্কৃতিক, সকল ক্ষেত্রে বাঙ্গালী জনগোষ্ঠীর সাথে জাপানীদের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ থেকে ঘনিষ্ঠতর হয়ে উঠছে । এ বছর রেডিও জাপানের একটানা বাংলা সম্প্রচারের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপিত হচ্ছে । এই প্রেক্ষাপটে শ্রোতাদের সাথে আরও নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলতে রেডিও জাপান তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে ।
বর্তমানে দিনে ৪৫ মিনিটের অধিবেশনে , জাপানসহ এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ খবর ও তথ্য ভিত্তিক অনুষ্ঠান এবং শ্রোতাদের চিঠিপত্রের জবাবের অনুষ্ঠানসহ বিচিত্র পরিবেশনা টোকিওর স্টুডিও থেকে সম্প্রচার করা হয়ে থাকে । শর্টওয়েভের পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রধান কয়েকটি শহরে আমাদের অনুষ্ঠান এফ এম তরঙ্গেও শোনা যায় । রেডিওর পাশাপাশি ইন্টারনেটের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শোনার ব্যবস্থা থাকায় এখন আমাদের শ্রোতাদের পরিধি বাংলাদেশ ও ভারত ছাড়াও বিশ্বের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে পড়েছে ।আমরা বিশ্বের বিভিন্ন জায়গা থেকে আমাদের শ্রোতাদের মূল্যবান মতামতের অপেক্ষা করছি ।